পারাপারে বিড়ম্বনা

সারাবাংলা

ফয়জুল ইসলাম ফয়সাল, মুরাদনগর থেকে :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন দৌলতপুর-ধনপতিখোলা সড়কের আরসি নদীতে একটি সেতুর অভাবে ৫ গ্রামের ২০ হাজারের বেশি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারের ফলে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। উৎপাদিত কৃষি ফসল ও গবাদিপশু পারাপারে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছে কৃষকরা। এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মানের দাবি দীর্ঘদিনের। বহু প্রতীক্ষার পরও নির্মিত হয়নি সেতু। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরসি নদীতে নৌকার পরিবর্তে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সাঁকোটি উঁচু-নিচু হওয়ায় স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ বয়স্ক নারী-পুরুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। অসুস্থ রোগী পারাপারে ভোগান্তিতে পড়ছে স্বজনরা। অতি ব্যবহারে কিছুদিন পর পর বাঁশের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সেতুরর অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা। জীবনমান উন্নয়নে ধনপতিখোলা, কালারাইয়া, খদ্দরকান্দা, যোগিরখিল ও পাঞ্জিরপাড় গ্রামের মানুষ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। দুর্ভোগ লাঘবে আরসি নদীর ওপর জরুরি সেতু নির্মাণের প্রাণের দাবি এলাকাবাসীর। কালারাইয়া রুহানী দরবার শরীফের খাদেম হাফেজ কাউছার আলম বলেন, আরসি নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকোটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রায় সময়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা। ব্রিজটি নির্মাণ হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে।
ধনপতিখোলা গ্রামের মাওলানা সাজ্জাদুল হোসাইন ফারুকী বলেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছর কেটে গেছে, কেউ কথা রাখেনি। অপেক্ষায় কেটেছে দীর্ঘ ৪৯ বছর। ব্রিজ না হওয়ার কষ্টে রয়েছেন ৫ গ্রামের মানুষ। ব্রিজ না হওয়ার কারণে এলাকার রাস্তা ঘাটেরও কোনো উন্নয়ন হয়নি।
একই ধরনের কথা বলছিলেন নদীটির পূর্ব পাশের কালারাইয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ সরকার, শহীদ মিয়া ও রাজিব ভট্টাচার্য্যসহ কমপক্ষে ১৫ জন। তারা বলেন, আরসি নদীতে ব্রিজ না থাকায় তাদের গ্রামে পাকা সড়ক হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগি হয়ে যায়। ফলে ভারি বোঝা বহন করতে কষ্ট হয়।
ধনপতিখোলা গ্রামের শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র রায় মনে করেন, এই এলাকায় সরকার গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।
ধনপতিখোলা বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল দেবনাথ বলেন, ব্রিজটি নির্মাণ হলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বাণিজ্য এবং সহজে স্থানীয়রা বাজারে মালামাল আনা নেওয়া সহজতর হবে। পাশাপাশি আশ-পাশের কয়েকটি ইউনিয়নসহ উপজেলা ও থানার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা হবে।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও কালারাইয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য তোতা মিয়া বলেন, ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের বর্ষা মৌসুমে সহজে যাতায়াত করতে পারবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে ওই ৫ গ্রামের মানুষ। অন্যদিকে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঠিক রাখতে পুলিশ তাদের কাজের পরিধি বাড়াতে পারবে। বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, গত ৭ বছরে আমাদের এমপি আলহাজ্ব ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন সাহেব জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গায় ব্রিজ করেছেন। আমরা আশাবাদী অতি দ্রুত এ ব্রিজটিও করবেন। ব্রিজটি হলে ৫ গ্রামের মানুষের দূর্ভোগ লাগব হবে।
মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রিজটি বাস্তবায়নের জন্য আইআরআইডিপি-৩ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। সহসাই সয়েলটেস্ট শেষে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *