পার্কলেট তৈরির মাধ্যমে সামাজিকীকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়

কর্পোরেট কর্ণার

ঢাকা শহরে মানুষের অবসর যাপন এবং বিনোদনের জন্য তেমন কোন উম্মুক্ত স্থান চোখে পড়ে না। শিশুরা বাহিরে গিয়ে খেলার জায়গা পায় না। ব্যক্তিগত গাড়ি বৃদ্ধির কারণে রাস্তায় পার্কিং সুবিধা দিতে গিয়ে নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এখন ইচ্ছে করলেও বড় পার্ক বা খেলার মাঠ তৈরি করতে হয়তো পারবে না। পার্কিং এর কারণে যে স্থানটি দখল হয়ে থাকে সে স্থানটিতে সাময়িক সময়ের জন্য পার্কলেট (সামাজিকীকরণের ক্ষুদ্র জায়গা) তৈরির মাধ্যমে সামাজিকীকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।  বৃহস্পতিবার সকালে ( (১৬ সেপ্টেম্বর,২০২১) প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, ‘ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ, কাল ফ্রি সিটিস এলাইন্স ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে “সামাজিকিকরনের সুযোগ সৃষ্টিতে পার্কলেটের গুরুত্ব” শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমক ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেল্থ ব্রীজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর সভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ মিঠুন এর সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ প্ল্যানার্স (বিআইপি) এর প্ল্যানার হামিদুল হাসান নবীন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্থপতি ও উদ্যানতত্ত্ববিদ এবং লেকচারার (স্থাপত্য বিভাগ) আলিয়া শাহেদ এবং প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো: বিল্লাল হেসেন।
দেবরা ইফরইমসন বলেন, শহরে শিশুরা খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছে না। ফলে শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ হচ্ছে না। তাই শিশুদের সামাজিকীকরন ও বিনোদনের জন্য শহরগুলোতে প্রচুর পরিমাণ পার্কলেট গড়ে তুলতে হবে। জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন বলেন, আমাদের জীবন আচরণই আমাদের পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী। তাই নগরকে বসবাসযোগ্য করতে হলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। গাউস পিয়ারী বলেন, আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা, সামাজিকীকরণ এবং জনস্বাস্থ্য বজায় রেখেই আমাদের নগর পরিকল্পনা করতে হবে। তা নাহলে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারবো না। হামিদুল হাসান নবীন বলেন, শিশুদের জন্য খেলার স্থানের কথা বিবেচনা করে নগর পরিকল্পনা করা উচিত। পলিসি লেবেলে পার্কলেটের মতো ধারনাগুলোকে বাস্তাবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। আলিয়া শাহেদ বলেন, স্থায়ী পার্কলেট বা মিনি পার্ক যে শুধুমাত্র শিশুদের খেলার স্থান বা বিনোদনের স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় তা কিন্তু নয়। সেখানে অন্যান্য প্রাণীরও আবির্ভাব ঘটে যেমন পার্কলেটে গাছ থাকলে গাছে পাখি, বাদুর, প্রজাপতি ইত্যাদি পতঙ্গও থাকে। তাই একটা পার্কলে থাকলে প্রাণের উপস্থিতি ঘটে।
উল্লেখ্য ‘পার্কলেট’ হলো পার্কিংয়ের স্থানে ছোট বিনোদনকেন্দ্র। সড়কের পাশে, বাড়ির বর্ধিত অংশে ও মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গায় এই ছোট পার্ক (পার্কলেট) গড়ে তোলা যায়। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরে প্রথম পার্কলেট কর্মসূচী শুরু হয়। বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোর এই উদাহারন গ্রহন করে পৃথিবীর অন্যান্য শহরেও পার্কলেট গড়ে উঠছে। ২০১৫ সালে থেকে দি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং উদ্যোগে ঢাকায় সাতটি ও চট্টগ্রামে একটি পার্কলেট প্রদর্শন করে।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *