পীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন ত্রিমুখী ভোট যুদ্ধ

সারাবাংলা

আনোয়ার হোসেন, পীরগঞ্জ থেকে:
নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। এখন সর্বত্রই এলাকায় প্রার্থীদের পোস্টার শোভা বর্ধন করা হয়েছে। বিভিন্ন সুর সঙ্গীতে প্রার্থী প্রচার চলছে মাইক ও ডেক্স সাউন্ডে। সুর ধ্বনি মানুষের মনে উৎফুল্ল জাগিয়েছে। ভোটের মাঠে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভোট চাওয়া আর কথার ফুল ঝুড়ির সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এবং নানা আশার বানী দিচ্ছেন প্রার্থীরা। হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে আড্ডায় প্রার্থীর দোষ-গুণ সহ একে অপরের চুলচেড়া বিশ্লেষণ কষছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা আঙ্গিকে পোস্ট করে ভোট চাচ্ছেন। এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই পৌর এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জানা যায়, সারা দেশে প্রথম দফায় ২৫টি পৌরসভার নির্বাচনের মধ্যে জেলার পীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন এখন সরগরম। তবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে আর সপ্তাহ দিন বাকী রয়েছে। এসময় সাধারণ ভোটারদের বুকে চাপা থাকা ক্ষোভগুলো প্রকাশ পেয়েছে। অসন্তোষ, অবহেলিত, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা, অন্যায়-অবিচার ও মিথ্যা অপবাদ দেওয়া সহ দুর্দিনে খোঁজ না নেওয়ায় ভোটের মাঠে ঝড় তুলেছে এরা। সাধারণ ভোটাররা অপেন চেলেঞ্জ ছুড়ছে ক্লিন ইমেজ মেয়র পদ প্রার্থীকে ভোট দেবে। সরেজমিনে গত কয়েক দিন ভোটের মাঠ থেকে বিভিন্ন ক্ষোভের সঞ্চার ও ক্ষমতার খর্ব করার তথ্য উঠে আসছে। পাশাপাশি জয় পরাজয় নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভাবনার সীমানা যেন নেই। কেননা দলীয় প্রতীক নিয়ে মানবিক অস্বস্তি অবস্থায় স্নায়ু যুদ্ধ চলছে। অবস্থান বেধে সু-দৃঢ় সুগম পথে এগোচ্ছেন অনেক নেতাকর্মী। তদুপরি দলের নিবেদিত অনেক নেতাকর্মী ভালো লাগার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করছেন। যা বিগত সময়ে কাঙ্খিত ফল দেখা দেয় পীরগঞ্জের নির্বাচনী সময়ে। এরই মধ্য দিয়ে এই পৌরসভায় মেয়র পদে চার দলের ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের চূড়ান্ত প্রার্থী চার দলের ৪ জন ও বড় দুই দলের ২ জন, বিদ্রোহী তথা স্বতন্ত্র মেয়র পদ প্রার্থী। ফলে দুই দলের মধ্যে তুষের আগুনে ধিকিধিকি জ্বলছেন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার মধ্য থেকে ৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের পীরগঞ্জ উপজেলা সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-বিদ্রোহী তথা স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক (নারিকেল গাছ) প্রতীক নিয়ে অপ্রতিরোদ্ধ অগ্রযাত্রায় ভোট যুদ্ধে এগিয়ে আছেন। সাধারণ ভোটাররা অপেন চেলেঞ্জে নারিকেল গাছের চারা রাস্তায় রোপন, গাড়িতে নারিকেল চারা গাছ বেঁধে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নারিকেল চারা গাছ লাগিয়ে ভোটের প্রচারণা চালিয়ে আসছেন তার পক্ষে। এ যেন কারিশমা লাগিয়েছে। তৎসঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী ও বাম দল জোটের নেতা কর্মীরা ওই প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী কাজ করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকরামুল হক জানান, দল মতের ঊর্ধ্বে ভোটাররা তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। আর আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মনোনয়ন পাওয়া পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বর্তমান পৌর মেয়র কশিরুল আলম (নৌকা) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। প্রাণপন চেষ্টায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন তিনি। তবে দলের অনেক নেতাকর্মী তার নির্বাচন না করায় ফুঁসে উঠছেন তিনি। মেয়র পদ প্রার্থী কশিরুল আলম জানায়, দলের নিয়মকে না মেনে স্থানীয় শীর্ষ নেতা তার নির্বাচনের কার্যক্রম ঠিকমত করছে না। দলের জেলা সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব নির্বাচনী মাঠে এক নিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তিনি জানান, জনগণ আমার পাশে আছেন আবারও ভোট দিয়ে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করবেন। চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক জানায়, নেত্রী নৌকা দিয়েছে নৌকা প্রতীক জয় করার জন্য সম্মেলিত ভাবে প্রাণপন চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আরেকদিকে বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের চূড়ান্ত প্রার্থী পীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ভোটের মাঠে ফুরফুরে রয়েছেন তিনি। মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম জানায় অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ এবং নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ নিয়ম পালনের আহ্বান জানান। তার পক্ষে উপজেলার বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান সহ দলের নেতাকর্মী ও ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা এক নিষ্ঠভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। এক্ষেত্রে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বিদ্রোহী তথা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (জগ) প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। তিনি এলাকার লোকজনকে নিয়ে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। মেয়র প্রার্থী জয়নাল আবেদীন জানান, দীর্ঘদিন ধরে মেয়র পদের নির্বাচন করার জন্য মাঠে অবস্থান করেছি। কিন্তু দলের মধ্যে আমাকে নিয়ে বিষাদ সিন্ধু ঘটায় মনোনয়নপত্র আমাকে না দেওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী নয় স্বতন্ত্র হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করছি। এতে বিএনপির মধ্যে কিছুটা অসস্তেুাষ বিরাজ করছে। এই সময়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিনি পৌর নির্বাচনের কর্মী সম্মেলন আলোচনা সভায় প্রকাশ করেন দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মেয়র পদে রেজাউল করিম রাজার পক্ষে নির্বাচন করার। এক্ষেত্রে জয়নাল আবেদীনকে নিয়ে সমঝোতা করে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন করার উদার্ত আহ্বান জানান। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী জয়নাল আবেদীন সমঝোতায় আসেননি। এতে বিএনপির মধ্যে কিছুটা অসহনীয় অসস্তোষ বিরাজ করছে। এছাড়া ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টির (এ) দলীয় মনোনিত একক প্রার্থী পীরগঞ্জ জাপার পৌর সভাপতি অধ্যাপক তৈয়ব আলী (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি জানায়, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে মেয়র নির্বাচিত হবেন। দলের জেলা সভাপতি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি হাফিজ উদ্দীন আহম্মেদসহ দলের নেতাকর্মীরা এক নিষ্ঠার সঙ্গে তার নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পীরগঞ্জ পৌর প্রকাশনা সম্পাদক হাফিজুর রহমান (হাত পাখা) প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। তিনি জানান, দলের নিদের্শনায় ধর বন্ধু হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মেয়র পদে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছি। সেই সঙ্গে এ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৩টি সংরক্ষিত আসনে নারী কাউন্সিলর ১২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর ৩২ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রচার-প্রচারণা, ভোট চাওয়া এবং নির্বাচিত হলে জনকল্যাণে কাজ করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের মাঠ সরগরম করে তুলেছেন। তবে সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী স্ব-শিক্ষিত বলে তথ্য বিবরণীতে উঠে আসে। সরেজমিনে ভোটের মাঠ ঘাটের তথ্য বিবরণী মতে, নির্বাচন এখন আওয়ামীলীগ প্রার্থী নৌকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ, বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থীর ত্রি-মুখী লড়াই হবে। এ পৌরসভায় মোট ভোটার ২১ হাজার ১৭৯টি। আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *