পীরগাছায় কেজিস্কুলের শিক্ষকদের মানবেতর জীবন

সারাদেশে

একরামুল ইসলাম, পীরগাছা থেকে : টানা পাঁচ মাস কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় রংপুরের পীরগাছা উপজেলার শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে সরকারি নির্দেশে বন্ধ হয়ে যায় দেশের বেসরকারি খাতে পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে হাজারো ছেলেমেয়ে। অনেকে আবার শিক্ষকতা পেশা বদল করে অন্য পেশা জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু সেখানে তারা নিজেকে মানিয়ে চলতে পারছে না। ফলে হতাশায় ভূগছে তারা। একদিকে যেমন কেজি স্কুলের শিক্ষকেরা বেকার হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে কেজি স্কুলের পরিচালিকরা পড়েছে বিপাকে। কারণ উপজেলার অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো ভাড়ায় পরিচালিত। না পারছে তারা শিক্ষকদের বেতন দিতে, না পারছে তারা কিন্ডারগার্টেনগুলো ছেড়ে দিতে। কেজিগুলোর একমাত্র আয়ের উৎস ছিল শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন। যেহেতু কেজি স্কুলগুলো বন্ধ, শিক্ষার্থীদেরও পক্ষে মাসিক বেতন দেয়া সম্ভব নয়। তাই কেজি স্কুলগুলোর মাসিক আয় বন্ধ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলায় মেধাবিকাশ শিক্ষা নিকেতনের পরিচালক ও ও নর্থবেঙ্গল কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল সোসাইটির উপজেলা শাখার অর্থ সচিব শিশির কুমার রায় বলেন, বর্তমানে আমাদের কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো গত ১৭ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো চালু না থাকার কারণে স্কুলের অবকাঠামোসহ আসবাবপত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়ায় চালিত, মালিকেরা ভাড়ার টাকা দিতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়ী ছেড়ে দেয়ার মতো হয়ে যাচ্ছে। অথচ এই কিন্ডারগার্টেনগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থী জন্ম নেয়। নর্থবেঙ্গল কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল সোসাইটির অধীনে উপজেলায় ৩২টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এতে শিক্ষক রয়েছে প্রায় ৪০০ জন। এর পাশাপাশি নর্থ ভিউ, নর্থ লাইন, বৃহত্তর রংপুর কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন ও ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অনেক স্কুল পরিচালিত হচ্ছে।
বৃহত্তর রংপুর কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের উপজেলা সভাপতি ও আব্দুস কুদ্দুছ কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক খোরশেদ কবির বাবুল বলেন, বৃহত্তর রংপুর কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের অধীনে উপজেলায় ১২টি কিন্ডারগার্টেন আছে। এতে শিক্ষক রয়েছে ১৮০ জন। আমার প্রতিষ্ঠানে সব মিলে ২১জন স্টাফ আছে। স্কুলের আয় বন্ধ হওয়ার কারণে তাদের মাসিক বেতন দিতে পাচ্ছি না। স্টাফদের সামান্য কিছু বেতন দিলেও তা আবার ধার করে দিতে হচ্ছে। আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সরকারের কাছে আবেদন করছি, প্রণোদনার পাশাপাশি যদি দেশের সব কিন্ডারগার্টেনগুলোকে সরকারিভাবে সহজ শর্তে রেজিস্টেশনের ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে আমরা কিন্ডারগার্টেনগুলোকে আরও ভালোভাবে চালাতে পারতাম।
নর্থ লাইন এসোসিয়েটের উপজেলা উপদেষ্টা ও পবিত্রঝাড় চাইল্ড ড্রিম একাডেমীর পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন জানান, নর্থ লাইন এসোসিয়েটের অধীনে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে। আমার চাইল্ড ড্রিম প্রতিষ্ঠানে সব মিলে ২০জন স্টাফ রয়েছে। তাদের মাসিক বেতন দিতে পাচ্ছি না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা দুর্বিষহ অবস্থায় আছি। মেধাবিকাশ শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষক সুমন চন্দ্র বলেন, আমরা কয়েক মাস থেকে বাড়িতে বসে আছি। কোনো কাজ কর্ম নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমাদের যেন প্রণোদনা বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে দেন। এ সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুর রহমান বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো প্রণোদনা আসেনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *