পুঠিয়ায় স্ত্রী ও শিশুকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা, প্রতিবন্ধী স্বামী আটক

সারাবাংলা

রাজশাহী ব্যুরো : রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্ত্রী ও ৫ মাসের শিশু সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত প্রতিবন্ধী স্বামী। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী স্বামী ফিরোজকে আটক করেছে পুলিশ। মৃতরা হলেন, পলি খাতুন ও তার ৫ মাসের কন্যা শিশু সন্তান। তবে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে তার আড়াই বছর বয়সি ছেলে ফাহিম প্রাণে বেঁচে যায়। গত সোমবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার গোপালহাটি গ্রামের ফকিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ফিরোজ বালিশ চাপা দিয়ে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তান ফারিহাকে হত্যা করে রাতেই পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করে পুলিশ। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই বাড়ির সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে যায়। পুঠিয়া থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়।

সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে আড়াই বছর বয়সি শিশু ফাহিম আলীর কান্না শুনতে পেয়ে ঘাতক ফিরোজের বাবা-মা ঘরে ঢুকে পলি ও ফরিহাকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধর করে। ঘাতক ফিরোজ পালানোর চেষ্টাকালে রাজধানী ঢাকার গাবতলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহি বাস থেকে সেখানকার পেট্রোল টিমের পুলিশের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।

সূত্রে আরো জানা গেছে, ফিরোজ আলী বিয়ের আগে থেকেই নেশাগ্রস্থ ছিলেন। গত চার বছর পূর্বে পুঠিয়া পৌরসভার ৪ নং কৃষ্ণপর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার জুলহাস আলীর মেয়ে নিহত পলি খাতুনের সাথে বিয়ে হয় ফিরোজের। বিয়ের পর থেকে নেশার টাকার জন্য সে তার বাড়ি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে করতো। এ নিয়ে তার স্ত্রীর পলির সাথে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। মাঝে মধ্যে ফিরোজ তার স্ত্রীকে শারিরিক নির্যাতন চালাত। সোমবার দিবাগত রাতে নেশার টাকার জন্য তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া এ পর্যায়ে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।

এ তথ্য নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানার ওসি তদন্ত খালেদুর রহমান জানান, মাদকাসক্ত ফিরোজ একজন সড়ক দুর্ঘটনায় পা হােিয় প্রতিবন্ধী। ফিরোজ মাদকাসক্ত ছিল। মাদকাসক্ত হওয়ায় তাকে বেশ কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল পরিবারের লোকজন কিন্তু কোন লাভ হয়নি। সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে প্রতিবন্ধী ফিরোজ তার স্ত্রী ও শিশুকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিলো। স্ত্রী ও শিশুকে হত্যা করার পর সে পালিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *