পুত্রবধূর জন্য ‘তাবিজ’ আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শাশুড়ি

নারী ও শিশু সারাবাংলা

ডেস্ক রিপোর্ট: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগরে কবরিাজের বাড়ি থেকে অসুস্থ অন্তঃসত্তা পুত্রবধূর জন্য ‘তাবিজ’ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রিনা বেগম (৪২) নামে এক গৃহবধূ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে ঘটনার ৫দিন পর ভিকটিম নিজে বাদি হয়ে উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিন ইউনিয়নের ডুলপুষি সরকারারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারসহ পাঁচ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মধ্যনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি পুলিশ ওইদিন বিকেলে ধর্ষিতা ওই গৃহবধূকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, একই ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে আজাদ মিয়া (৪৮), পাশের রংচাতি গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে আর্শাদ মিয়া (৩৫), বংশিকুন্ডা গ্রামের সায়েব আলীর ছেলে ইউনুস মিয়া (৩৫) ও একই গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম( ৩৫)। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ২৮ মার্চ রাত ৮ টার দিকে উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণউড়া গ্রামের নৃপেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়ির সামনের পুকুর পাড়ে থাকা একটি চাপড়া ঘরে ওই গৃহবধূকে জোরপৃর্বক এ গণ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে, বিষয়টি গোপন রেখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদসহ এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে খবর পেয়ে ঘটনার ৫ দিন পর পুলিশ বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) রাতে নিজ বাড়ি থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ওই রাতেই ভিকটিম নিজে বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গৃহবধূ রিনা বেগম ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় তার অন্তঃসত্তা অসুস্থ পুত্রবধূর জন্য পাশের বাট্রা গ্রামের দ্বিনবন্ধু নামে এক কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ আনতে যান। পরে সেখান থেকে রাত ৮ টার দিকে তাবিজ নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে দক্ষিন উড়া গ্রামের নৃপেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়ির সামনের পুকুর পাড়ে একটি ছাপড়াঘরে বসে শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারসহ ৫জন মাদক সেবন করছিল। এ সময় তারা ওই গৃহবধূকে একা দেখতে পেয়ে তাকে ডেকে ওই ঘরে নিয়ে আসে এবং সেখানে ওই গৃহবধূকে জোরপৃর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিতা ওই গৃহবধূ সেখান থেকে গিয়ে বিষয়টি তার স্বামীসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানান।

এ দিকে মামলার প্রধান আসামি নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত হর কুমার সরকারের ছেলে ও ডুলপুষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদসসহ এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার প্রধান আসামি শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও মোবাইলটি বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে গত দুইদিন আগে ওই ভিকটিম অভিযোগ নিয়ে আসলে আমি তাকে থানায় গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে বিদায় করি।’

মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নির্মল চন্দ্র দেব থানায় মামলা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় শিক্ষক রতন চন্দ্র সরকারসহ পাঁচ জনকে আসামি করে ভিকটিম নিজে বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পাশাপাশি শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *