পুর্নবাসনের নামে প্রহসন

সারাবাংলা

সাফায়েত হোসাইন, দশমিনা থেকে : অসহায় মুক্তিদ্ধোদের পুর্নবাসনের জন্য কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তর নামে প্রহসনের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর দশমিনা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সরকারিভাবে চাষাবাদ যোগ্য জমিতে বন্দোবস্ত দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে দশমিনা উপজেলার ১৯ অসহায় দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ২০ ফুট পানির নিচে ১.৫০ একর করে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান (বীর প্রতীক) অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ২০ ফুট জলের তলদেশে রয়েছে বন্ধোবস্তকৃত কাঙ্খিত কৃষি জমি। সেখানে বর্তমানে নৌযান চলাচল করে। তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে ২০০০-০১ সালে জেলা প্রশাসক প্রহসনের ওই বন্ধোবস্ত করে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পূর্ণবাসনের নামে এই প্রহসন নিয়ে প্রশাসনের দ্বারে ২০ বছর ধরে ঘুরেও মেলেনি এর কোনো সুরাহা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০০-০১ সালে উপজেলার চর শাহজালালের পার্শ^বর্তী বুড়াগৌরাঙ্গ নদে চর সামাদ নামে একটি চর্চা ম্যাপ তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন। ওই চর্চা ম্যাপের ভিত্তিতে জেলা ভূমি বন্দোবস্ত কমিটি দশমিনার ১৯ দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা নামে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত করে। এদের মধ্যে রয়েছে- আরজবেগী গ্রামের মো. মজিবর রহমান দাগ নং-৮৬, মো. আলাউদ্দিন দাগ নং-১৩৪, লাল মিয়া দাগ নং-১৩৭, চাঁদপুর গ্রামের ইউনুস দেওয়ান দাগ নং-৮৯, মো. মোসলেম রাঢ়ী দাগ নং-১২১, আব্দুল গনি দাগ নং-১১১, আলী আকবর দাগ নং-১৩৬, মো. তাজমুল হোসেন দাগ নং-১২২, ছালাম মজুমদার দাগ নং-৮৮, উত্তর আদমপুর গ্রামের আবুল হাসেম রাঢ়ী দাগ নং-১১০, গছানী গ্রামের কাজী নুর হোসাইন দাগ নং-১১৪, চর শাহজালালের আব্দুল মন্নান দাগ নং-১১৮, রনগোপালদী গ্রামের মো. আব্দুল মন্নান দাগ নং-৮৭, দশমিনার মো. নুরুল ইসলাম দাগ নং-১৩৫, বহরমপুর গ্রামের মো. ইউনুস দাগ নং-১২০, খারিজা বেতাগী গ্রামের মো. শাহবুদ্দিন দাগ নং-১০৯, খলিসাখালী গ্রামের আব্দুল খালেক হাওলাদার দাগ নং-১১৫, দক্ষিণ আউলিয়াপুর গ্রামের খালেক খান দাগ নং-১১২, লক্ষীপুর গ্রামের কমলা রানী দাস দাগ নং-১১৬। কৃষি জমির স্বপ্ন নিয়ে ইতোমধ্যেই গত হয়েছেন জমি বন্দোবস্ত পাওয়া ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা। দশমিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ততকালীন সময়ে চর্চা ম্যাপ অনুমোদন দিয়ে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, তাই জমির র্নিদিষ্ট সীমানা নির্ধারন করা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদৌস জানান, বিষয়টি উপজেলা ভ‚মি কমিটির সভায় আলোচনা করে মুক্তিযোদ্ধাদের জমির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *