পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল ইসলামের গবেষণামূলক গ্রন্থ “করোনাকালে মানবিক পুলিশ”

জাতীয়

** ১৬টি অধ্যায়ের সমন্বয়ে রচিত বইটিতে ফুটে উঠেছে করোনাযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের বহুমুখী কার্যক্রমের এক স্পষ্ট চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সময়টা ছিল ভয়াবহ এক দুঃসময়। করোনার মারণ ছোবলে পাল্টে দিয়েছিল সব হিসাব-নিকাশ কে আপন, আর কে পর- নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিল সময়। করোনা আক্রান্তদের দীর্ঘশ্বাস আর ঘরবন্দী মানুষের হাহাকারে ভারি হয়ে উঠেছিল বাতাস। সবাই যখন পিছপা, তখন যোগ্য এক নেতার বলিষ্ঠে নেতৃত্বে সকল ভয়, সংশয় আর পিছুটানকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ পুলিশ রচনা করেছে এক মহাকাব্যিক ইতিহাস। আক্রান্ত হয়েছে হাজারে হাজার, অকাতরে বিলিয়েছে প্রাণ চরম বিপদেও দেশের মানুষের সেবা, সুরক্ষা আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তবুও কাজ করে গেছে অবিচল করোনাযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের এমন অনবদ্য অবদানের কথা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল ইসলামের গবেষণামূলক বিশ্লেষণধর্মী গ্রন্থ “করোনাকালে মানবিক পুলিশ”। ১৬ টি অধ্যায়ের সমন্বয়ে রচিত এই বইটিতে করোনাযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের বহুমুখী কার্যক্রমের এক স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রথম অধ্যায়ে “যুগে যুগে মহামারিঃ প্রেক্ষিত কোভিড-১৯” শিরোনামে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মহামারী এবং সে সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে তুলে ধরেছেন। করোনায় সৃষ্ট বিপর্যয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল ডক্টর বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)। করোনা মোকাবেলায় আইজিপি মহোদয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে “করোনাযুদ্ধের অগ্রনায়ক পুলিশ মহাপরিদর্শক” শিরোনামে দ্বিতীয় অধ্যায়টি প্রণীত হয়েছে। দেশের যেকোন প্রয়োজনে সবার আগে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ পুলিশ। যেকোন দুর্যোগ, দুঃসময় কিংবা ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ ঝুঁকিও উপেক্ষা করে এগিয়ে আসে পুলিশ। সেইসব বিষয়গুলো “ইতিহাসের সম্মুখযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ” শিরোনামে তৃতীয় অধ্যায়ে আলোকপাত করা হয়েছে। করোনার মতো ভয়াবহ প্যান্ডেমিক মোকাবেলায় না ছিল পুলিশের পূর্ব অভিজ্ঞতা, ছিল পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব। তবুও নিদেজের সুরক্ষা কথা না ভেবে মানুষের প্রয়োজনে সাড়া দিয়েছে পুলিশ। সংকট এড়িয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সেই সাড়াদানের গল্পগাঁথা চতুর্থ অধ্যায়ে “করোনা মহামারি সম্মুখযুদ্ধে পুলিশ” শিরোনামে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২০ সাল ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এই বছরটিকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুলিশী সেবাকে জনগনের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে পুলিশ। সেইসব বিষয়গুলো ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” শিরোনামে পঞ্চম অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। করোনা মানুষের সকল সম্পর্ককে নতুন করে চিনতে শিখিয়েছে। করোনার ভয়ে ছেলে অসুস্থ মাকে ফেলে গেছে, ছেলে মৃত বাবার লাশ থেকে দূরে থেকেছে। ষষ্ঠ অধ্যায়ে “করোনা মহামারিঃ মানুষের নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার আখ্যান” শিরোনামে এমন বিষয়গুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। করোনাকালে নিজেদের কথা না ভেবে মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পুলিশ। জনগনের মুখে মুখে পুলিশের সাহসিকতার গল্প। লেখক সপ্তম অধ্যায়ে “সর্বকালের সেরা ও মানবিক পুলিশের তকমা” শীর্ষক অধ্যায়ে সেইসব বিষয়গুলো তুলে এনেছেন।
অষ্টম অধ্যায়ে করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশের মানবিক নানান উদ্যোগের কথা লেখক “পুলিশের মানবিক নানা উদ্যোগ” শিরোনামে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, করোনা কারনে লকডাউনে মানুষ ঘরবন্দী থাকায় অপরাধ বিশ্লেষণেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। নবম অধ্যায়ে ‘করোনা মহামারিতে সামাজিক অপরাধের ভিন্ন মাত্রা’ শীর্ষক আলোচনায় লেখক তথ্য-উপাত্ত দিতে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন। এ ছাড়াও “করোনাকালীন সময়োপযোগী পুলিশিং” শীর্ষক দশম অধ্যায়ে করোনা মোকাবেলায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল পুলিশিংয়ের বিষয়গুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। বইটির একাদশ অধ্যায়ে “করোনা মহামারির দিনগুলোর স্মৃতিচারণ” এবং দ্বাদশ অধ্যায়ে “করোনা যুদ্ধ জয়ের গল্প” শীর্ষক দুটি অধ্যায়ে মানুষের কথার গল্পে গল্পে বিভিন্ন বিষয় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সেই বিষয়গুলো ত্রয়োদশ অধ্যায়ে “ করোনা মোকাবেলায় সরকারের সর্বজনীন উদ্যোগ” এ তুলে ধরা হয়েছে। করোনাযুদ্ধে দেশের জন্য এ পর্যন্ত শহীদ হয়েছেন প্রায় ৮৬ জন পুলিশ সদস্য। সেই সব শহীদ পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন তথ্য চতুর্দশ অধ্যায়ে ‘সম্মুখযোদ্ধা শহিদ পুলিশ সদস্যদের কথকতা’য় উল্লেখ করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য ভূমিকার প্রশংসা করেছেন অনেক গুনীজন। পঞ্চদশ অধ্যায়ে “সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসায় গুণীজন’ শিরোনামে তা চমৎকারভাবে আলোকপাত করেছেন লেখক। বইটির সর্বশেষ অধ্যায়ে নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ পুলিশের এগিয়ে চলার গল্পকে ‘ তবুও সেবায় অনড় সম্মুখযোদ্ধা পুলিশ’ শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবারের বই মেলায়ও লেখকের এই বইটি পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। তথ্যবহুল এই বইটি সংগ্রহের জন্য আজই যোগাযোগ করুনঃ ০১৭১৭৪৮৭২২৭ নম্বরে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *