প্রতিবন্ধী মনিরুলের কষ্টের জীবন

সারাবাংলা

আব্দুল বাশির, গোমস্তাপুর থেকে
মানুষ চলাচলের রাস্তা দিয়ে হাঁটলে দেখতে পাওয়া যাবে রাস্তার পাশে বসে এক প্রতিবন্ধী যুবক হাঁস মুরগির পালক ছড়াচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যেসব পথচারী হেটে যায় তাদের মধ্যে কেউ না কেউ কিছু সময়ের জন্য থমকে দাঁড়ায়। তাকে জিজ্ঞাসা করে এতকিছু থাকতে তুমি এ পেশায় কেন? বলছি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার ডাকবাংলা পাড়ার আফসার আলীর ছেলে মনিরুল ইসলামের কথা। সক্ষম দুই পায়ে চলাফেরা মনিরুল ২০০৮ সালে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে সঠিক চিকিৎসার অভাবে তার এক পা অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে এক প্রকার কর্মহীন হয়ে পড়তে হয় তাকে। অভাবের সংসারে পিতার আয় তেমন না থাকায় সংসার ভালোভাবে চলছিল না। বাধ্য হয়ে লেখাপড়া না করে মাত্র ১০ বছর বয়সে একটি পানের দোকানে কাজ নেয়। তারপর পা অকেজো হয়ে গেলে বেশ কিছুদিন বেকার থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি ডায়াবেটিস সেন্টারে অল্প বেতনে তিন বছর কাজ করে। পোলট্রির দোকানে কাজ শেখার জন্য বিনা বেতনে দুই বছর কাজ করে সে। পরবর্তীতে পেশা হিসেবে হাঁস মুরগির পালক উঠানোর কাজ বেছে নেয়।
এ প্রসঙ্গে মনিরুল এর সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, পেশাটি নিম্নমানের হলেও আমি এ কাজ করে খুব আনন্দ পায়। কারণ বর্তমানে এটাই আমার একমাত্র আয়ের অবলম্বন। মুরগি এবং হাঁসের পালক উঠিয়ে আমি দিনে সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচশত টাকা আয় করি। অবশ্য ১৩ বছর ধরে আমি প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। আমার সংসারে স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। যদি আমি কারো কৃপায় ব্যবসা করার মত একটি স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে আমি এই কষ্টদায়ক পেশাটি ছেড়ে দিতাম, তাহলে একটি স্থায়ী উপার্জনের ব্যবস্থা হত। সে সঙ্গে সন্তানগুলোকে লেখাপড়া করে মানুষ করতে পারতাম।
প্রতিবেশী আব্দুল মতিন বলেন, অনেকদিন থেকেই সে হাস মুরগির পালক উঠানোর ব্যবসা করে। এক পা অক্ষম থাকায় তাকে এ কাজ করতে হচ্ছে। সে যখন চলাফেরা করে তখন তাকে লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে হয়। আমি চাই এই অসহায় মনের মানুষের জন্য একটি সুব্যবস্থা হোক। এ ব্যাপারে সমাজের ধনবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসতে পারেন। কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান জেম বলেন, মনিরুলের একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। তার পরেও সে সরকারি সহায়তার জন্য যদি কোন আবেদন করে সে ক্ষেত্রে আমি তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, যেহেতু মনিরুলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড চালু রয়েছে সেহেতু আর তেমন কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রতিবন্ধীদের জন্য যদি কোন ঋণের ব্যবস্থা থাকে এবং সে যদি নিতে আগ্রহী হয় তাহলে আমরা সেটা ব্যবস্থা করতে পারি। রহনপুর পৌর মেয়র মতিউর রহমান খান বলেন, মনিরুলসহ পৌর এলাকায় প্রতিবন্ধীদের জন্য রহনপুর পৌরসভা কিছু করার চিন্তা ভাবনা করছে। তাদের আবেদন পেলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *