প্রতিবেশীর জমি কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলল প্রভাবশালী

সারাবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কৃষি জমিতে ড্রেজার লাগিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে হুমকিতে পড়েছে আশপাশের কৃষি জমিগুলো। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আদালত ১৪৪ধারা জারি করলেও পুলিশ কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি। এই সুযোগে ভূমিদস্যুরা জমিকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে পুকুর বানিয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুরের মৃত নাসির উদ্দিনের মেয়ে সাবেরা বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে আসামী করা হয়েছে একই এলাকার মৃত আনজব আলীর ছেলে কাপ্তান মিয়াকে।

স্থানীয় সূতে জানা যায়, প্রভাবশালী কাপ্তান মিয়া ওই জমিতে ড্রেজার দিয়ে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলেছে। মৃত নাসির উদ্দিনের ৬৭ শতাংশ জমি রয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ৪ছেলে ও ৪মেয়ে এই জমির মালিক। এই জমির পাশের কাপ্তান মিয়া নামের এক প্রভাবশালীর জায়গা ও ইটভাটা রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারী রাতে কাপ্তান মিয়া ওই জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করেন। এই মাটি তিনি তার ইটভাটা ও আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে বিক্রয় করেন। আর কাপ্তান মিয়াকে সহায়তা করেন মৃত নাসির উদ্দিনের এক ছেলে ওসমান মিয়া। এই ওসমানের সাথে তার অন্যান্য ভাই-বোনের বনিবনা নেই। তার বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে। তাই কোন উপায় না পেয়ে মৃত নাসির উদ্দিনের মেয়ে সাবেরা বেগম অন্যান ভাই-বোনের পক্ষে বাদি হয়ে গত ১৪জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদি সাবেরা বেগম বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারা নথি ১৭জানুয়ারী থানায় গিয়ে পৌঁছে। থানা এই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় কাপ্তান মিয়া প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন চালিয়ে যায়। পরে আমি কয়েক দফা পুলিশকে জানানোর পরও কোন গ্রহণ করেননি।

অভিযুক্ত কাপ্তান মিয়া বলেন, আমি তাদের জমি থেকে মাটি উত্তোলন করিনি। আমি নিজে বিচার প্রার্থী। আমার জমি হুমকির মুখে পড়েছে। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিচুল হক জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। ম্যাসেজ দিয়ে বাদি বিবাদির ঠিকানা পাঠান। ব্যবস্থা নেব। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই খোকন জানান, ওসি সাহেব আমাকে আদালতের আদেশটি ৯ ফেব্রুয়ারী রাতে দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি এর আগে অনেক গভীর করে মাটি কেটে উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *