প্রতিমায় রঙের আঁচর

সারাবাংলা

সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে
কমলগঞ্জে ১৫৩ মণ্ডপে হবে শারদীয় দূর্গোৎসব। ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হবে এবারের দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা, চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর কমলগঞ্জ উপজেলায় ১৫৩টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দূর্গোৎসব। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। করোনার অতি মহামারিতেও সনাতন ধর্মালম্বী প্রতিটি পরিবারে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দূর্গোৎসব পালনের জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে কমলগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটিও বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের নানা প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছেন। বেশ কয়েকটি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, শিল্পীরা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিল্পীরা মাটি আর খড় দিয়ে পরম যত্নে প্রতিমা তৈরি করছেন। মাটির কাজ সম্পন্ন হলেই প্রতিমাগুলোতে রঙের আঁচর দেওয়া হবে। পাশাপাশি চলছে নান্দনিক ডিজাইনের প্যান্ডাল তৈরির কাজও।
মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ রায় (মুন্না) জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে মহাদশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের শোভাযাত্রা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, জেলার সবগুলো পূজা মণ্ডপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে পূজা উদযাপনের জন্য সারাদেশে বিশেষভাবে ১৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই ১৮টি নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য নির্দেশনা হলোÑ এ বছর করোনা মহামারির কারণে মহালয়া অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে করতে হবে। প্রতিমা তৈরি থেকে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পূজা মন্দির ও মণ্ডপে নিজস্ব উদ্যেগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মন্দির ও পূজা মণ্ডপে আগত দর্শনার্থী, ভক্ত, পুরোহিতসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে। সরকার নির্দেশিত শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। উচ্চ শব্দের কারণে বিরক্তি উদ্রেককারী মাইক/পিএ সেট ও আতসবাজি ও পটকা ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ভক্তিমূলক সংগীত ব্যতীত ডিজে ও কুরুচিপূর্ণ গান বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। সব প্রকার আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, মেলার আয়োজন, আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে। যেসব জায়গায় অস্থায়ী প্যান্ডেলে দূর্গাপূজা করা হবে সেসব ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে পূজা করা যাবে কিনা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পূজোকালীন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে মন্দির/মণ্ডপ কেন্দ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে। পূজাকালীন দায়িত্বরত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। কমলগঞ্জ ভানুগাছ কেন্দ্রীয় দূর্গা মণ্ডপের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব জানান, আমাদের পূজা মণ্ডপে যারা আসবেন, তারা সবাই সরকারি বিধি বিধান মেনে পূজা করে যার যার বাড়িতে চলে যাবেন। ইতোমধ্যে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছি। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শারদীয় দূর্গাপূজা উৎসবকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ইতোমধ্যে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দূর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে শীঘ্রই পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা বরাবরের মতো এবারও দূর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *