প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেলেন আমেনা

সারাবাংলা

শামীম সরদার, গাইবান্ধা থেকে : কেউ কথা রাখেনি গৃহহীন আমেনার শিরোনামে সংবাদটি বিভিন্ন পত্রিকাসহ অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি গোচর হলে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আমেনার জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার বিকেল গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামস্থ আমেনার জন্য বরাদ্দের ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ, সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান সোহেল, সদস্য তাজুল ইসলাম রেজা, তোফায়েল হোসেন জাকির, ধাপেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, মাসুদ মো. আনোয়ার হোসেন, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুবিধাভোগি আমেনার জন্য ফুল-ফল, চাল-ডালসহ বিভিন্ন ধরণের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। শেষে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া পাঠ করেন সুবিধাভোগী আমেনা বেগম নিজেই। এসময় আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী সৈয়দ আলী ও একটি মাত্র প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ভাঙাঘরে আতঙ্কে রাতযাপন করছিলাম। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পাকা ঘর দেওয়ায় অকেকটাই আনন্দিত। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীঘায়ু কামনা করছি। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনহ উপজেলার চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আমেনা বেগম।

উল্লেখ্য, সত্তোরোর্ধ বয়সের আমেনা বেগম। স্বামী সৈয়দ আলী বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবনে একমাত্র সন্তান রাজ্জাক মিয়া। সেও মানসিক প্রতিবন্ধী। বসবাসের জন্য পলিথিন আর খড়ের বেড়া দিয়ে তুলেছে একটি ছাপড়া ঘর। জরাজীর্ণ এ ঘরে স্বামী-সন্তানের বসবাস। আকাশের মেঘ দেখলে আতঙ্ক বিরাজ করে তাদের মনে। একটু ঝড়-বৃষ্টি আসলেই দৌড় দিতে হয় অন্যের বাড়িতে। এছাড়া রান্না ঘর, টিউবয়েল-টয়লেটেও নেই তাদের। নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও। যেন অন্ধকার ভ‚তুড়ে বসবাস। খোলা আকাশের নিচে রান্নাবান্না সারতে হয় আমেনাকে। প্রতিবন্ধী ছেলে রাজ্জাক মিয়া ভবঘুরে। স্বামী সৈয়দ আলীর শরীরেও নানা রোগে বাসা বেঁধেছে। একই অবস্থা আমেনা বেগমেরও। তবুও পেটের তাগিতে ছুটতে হয় মানুষের দুয়ারে। দিনশেষে যেটুকু রোজগার হয়, তা দিয়ে পেট পুড়ে খেতে হয়। স্বামী-স্ত্রী সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না। কারণ একটাই, ভাঙাচুরা ঘর। কখন দুর্যোগ উঠে এমন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পলিথিন ঘরে বসবাস করে আসছিলেন আমেনা বেগম ও তার পরিবারটি। এ সংবাদটি প্রকাশের পর আমেনা বেগমের জন্য পাকা ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *