প্রেমের ফাঁদে ফেলে দৈহিক সম্পর্ক ॥ বড় অংকের টাকা লুট

সারাবাংলা

সোহেল রানা, নওগাঁ থেকে
নওগাঁয় ভুয়া ডিসি, পুলিশ সুপার, ডাক্তার ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার পরিচয়দানকারী সাদ্দাম হোসেন নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্র্রেফতার সাদ্দাম যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার আটুলিয়া গ্রামের কাওছার আলীর ছেলে।  মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া। এসময় তিনি বলেন, সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদের পটানোর কৌশল হিসাবে সে নিজের লাইফ স্টাইল চেঞ্জ করে। সে একেক সময়ে একেক মেয়ের কাছে বিভিন্ন পেশার পরিচয় দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে বড় অংকের টাকা লুটে নেয়। পূর্বে প্রতারণা করে দুটি বিয়েও করে। দুটি স্ত্রীর ঘরে তার পুত্র ও কন্যা সন্তান রয়েছে। সে পাঁচ তরকা হোটেলে বসবাস করে। সে প্রথমে তার নিজ এলাকার মানুষকে পোলান্ডে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে মানব পাচার কাজ শুরু করে। এরপর থেকে এই পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে। সে জেলার এক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যানের মনোনয়ন নিয়ে দেয়া, ছেলের চাকরি নিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে ওই জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে প্রতারনা করে ৩লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর গা ঢাকা দেয়। সম্প্রতি সে শহরের এক নামী পরিবারের মেয়েকে পটিয়ে বিয়ে করে। ওই জনপ্রতিনিধি জানতে পারেন যে সাদ্দাম নওগাঁতে বেড়াতে এসে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে তার স্ত্রীসহ অবস্থান করছে। তখন ওই জনপ্রতিনিধি যখন কোন ভাবেই সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলো না তখন তিনি বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার স্ত্রীসহ একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাদ্দাম যখন যে এলাকায় যেতো তখন সে দামী দামী ব্যান্ডের গাড়ী ভাড়া করে নিয়ে যেতো। তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *