পয়সায় বাড়ছে বাস ভাড়া, নিচ্ছে তারা টাকায়!

জাতীয়

ডেস্ক রিপোর্ট : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পরিবহন মালিকদের দাবিতে গেল ৭ নভেম্বর বাস ভাড়া বাড়িয়েছে বিআরটিএ। এরপর রাজধানীতে ‘সিটিং সার্ভিস’ ও ‘ওয়েবিল সিস্টেম’ আলোচনায় আসলে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। কিন্তু সিদ্ধান্তের তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনও ‘ওয়েবিল সিস্টেম’ চালু রয়েছে। যদিও মালিকপক্ষ দাবি করছে, নতুন করে নির্ধারণ করা ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে, ওয়েবিল রাখা হয়েছে শুধু হিসাবের জন্য।
মালিকপক্ষ এমনটা দাবি করলেও ‘ওয়েবিলের দোহাই দিয়ে’ অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। এ নিয়ে প্রায়শই তর্ক হচ্ছে বাসের স্টাফদের সঙ্গে। বিষয়টি প্রত্যক্ষ করতে আজ মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে গুলিস্তানের গাড়িতে ওঠেন এই প্রতিবেদক। গাড়িটিতে একাধিক যাত্রীর সঙ্গে বাহাস করতে দেখা যায় বাস স্টাফদের।
বাস কর্মীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে মুজিবুর রহমান নামে এক যাত্রীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে যেটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেই ভাড়াই দিবো। চার্টে উল্লেখ করাই আছে কত ভাড়া দিতে হবে। এর বাইরে কেন দিবো।’
আসাদুজ্জামান নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘ভাড়া বাড়ছে পয়সায়, তারা বাড়াচ্ছে টাকায়। শুরুতে চার্ট দেখতো না মানুষ, এখন সবাই চার্ট দেখছে। আগের থেকেই এরা ভাড়া বাড়িয়ে নিতো। এখনও তারা ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে মূল ভাড়া থেকে হিসাব না করে আগের বাড়তি বাড়ার উপর অতিরিক্ত ভাড়া হিসাব করে। তখন ভাড়া চার্টের ভাড়ার চাইতেও বেশি হয়ে যায়।
বাসের কর্মীরা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে পরিবহন মালিক এবং ওয়েবিল পদ্ধতিকে দায়ী করে কৈফিয়ত দিচ্ছেন প্রায়শই। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন পল্টনের শিকড় বাসের ওবিল কাটার দ্বায়িত্বে থাকা নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, আগের ওয়েবিল পদ্ধতি বাদ। এখন আমরা শুধু ওয়েবিল কাটি হিসাব রাখার জন্য কতজন যাত্রী আছে বাসে। যেন দিনশেষে মালিকের বুঝতে সুবিধা হয় দিনে কতজন যাত্রী ওঠানামা করেছেন। ভাড়ার সাথে বর্তমান ওবিলের কোনও সম্পর্ক নাই। চার্ট অনুযায়ীই ভাড়া কাটার নির্দেশ দেওয়া আছে।
অতিরিক্ত বাস ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে বাস মালিকদের থেকে এরকম কোনও নির্দেশনা দেওয়া দাবি করেন শিকড় পরিবহনের এমডি মোহম্মদ শাহজালাল। তিনি বলেন, আমাদের পরিবহন সেক্টরের স্টাফরা বেশিরভাগই শিক্ষিত না। তারা নতুন ভাড়ার বিষয়ে এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না। আমরা প্রত্যেকদিন রাতে তাদের কাউন্সেলিং করি। ধীরে ধীরে বুঝে যাবে বলে আশা রাখি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগে মূলত মিরপুর থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট থেকে গুলিস্তান এই তিন স্ল্যাবে ভাড়া নির্ধারণ করতাম। এখন আমরা প্রত্যেক স্টপেজে স্ল্যাব রেখেছি। এখন মোট স্ল্যাব ১২টি। তাদের ভাড়াও কাটতে হচ্ছে ১২ স্ল্যাবে। তাই ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক যাত্রী নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকার যে নিয়ম; সেটাও মানতে চাইছেন না। তাই বাস হেল্পারদের সাথে তর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন। আমরা চেষ্টায় আছি ধীরে ধীরে এই সমস্যা দূর করতে। ভাড়ার বিষয়টা পরিষ্কার হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *