ফকিরহাট সদর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি কে হবে

সারাবাংলা

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের সর্বত্র সরগরম। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, রাস্তার মোড়সহ সবখানেই চলছে একই আলোচনা। আর আলোচনার মূল কেন্দ্র এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফকিরহাট সদর ইউনিয়নে কে হবেন নৌকার মাঝি। এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে চলছে নানান বিচার আর বিশ্লেষণ। এখনো অবদি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হয়নি তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। কোন কোন সম্ভাব্য প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের সাথে এখন থেকেই কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছে।তার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থী হবার কথা। উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে সদর ইউনিয়ন হওয়ায় সাধারণ ও সচেতন ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে সদর ইউনিয়নে কে হবে নৌকার মাঝি।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার কিসলু, সাবেক যুবলীগ নেতা হারুনর রশিদ হারুন
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ঠিকাদার মোঃ আসলাম শেখ।

শিরিনা আক্তার কিসলু উপজেলা আওয়ামী লীগের এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান
প্রয়াত খান জাহিদ হাসানের স্ত্রী। খান জাহিদ হাসান দূর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হবার পর শিরিনা আক্তার কিসলু রাজনীতিতে
অভিষেক ঘটান। ১ম বার তিনি স্বামীর স্থানে উপনির্বাচনে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে অধিষ্ঠিত হন। পরে উপজেলা।

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন। শিরিনা
আক্তার কিসলুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্বামী খান জাহিদ হাসান এই ইউনিয়ন তথা এই জনপদের সাধারণ মানুষের
পাশে ছিলেন সব সময়।আমার স্বামীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে আমি তার স্থানে এসে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার
চেষ্টা করেছি আপ্রাণ। দল থেকে যদি আমাকে দলীয় প্রতীক দেয় তবে এভাবেই নিষ্ঠার সাথে আমি ইউনিয়ন বাসীর সেবায়
নিয়োজিত থাকবো।

অপর সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ হারুনর রশীদ ও ছাত্র রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে এসেছে।বংশীয় ভাবে আওয়ামিলীগ পরিবারের সন্তান
হবার সুবাদে।তিনি আওয়ামিলীগ এর সাথে জড়িত ছাত্র থাকাকালীন রাজনিতীর সাথে জড়িত হন। ১৯৯১ থেকে ৯৩ সাল অবদি
তিনি ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার
পর নানা প্রকার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল অবদি তিনি ফকিরহাট উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক
হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে যুবদলের হামলার শিকার হয়েছেন এবং একাধীক মামলা হাজত বরণ করেছেন।২০০৬
সাল থেকে ২০১৩ সাল অবদি তিনি ফকিরহাট উপজেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।হারুনর রশীদ এর
সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি পারিবারিক ভাবে আওয়ামিলীগ এর রাজনীতির সাথে জড়িত।ছাত্র রাজনীতি থেকে আমি একনিষ্ঠ ভাবে দলের জন্য কাজ করে আসছি।দল যদি আমাকে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করার সুযোগ দেয় তবে আমি ইউনিয়নবাসীর পাশে থেকে সেবা করবো ইনশাআল্লাহ।সাধারণ জনগন চাই পরিবর্তন আর আমিও আশাবাদী পরিবর্তন আসলে ইউনিয়ন এর উন্নয়ন আরো বিকশিত হবে।

অপরদিকে আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী মোঃ আসলাম শেখ এর নাম ও শোনা যাচ্ছে। আসলাম শেখ ১৯৮১ সালে উপজেলার হাজী
আব্দুল হামিদ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।১৯৯৩ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।সেই সাথে ১৯৯৪-৯৭ সাল অবদি বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সদস্য পদে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপজেলা ছাত্রলীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে
২০০০ সাল অবদি ছিলেন বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট। সেই সাথে তিনি একজন প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার। ২০২০
সালে বাগেরহাট জেলার ৭ জন সেরা করদাতার ভিতর সর্বোচ্চ করদাতা নির্বাচিত হন। আসলাম শেখ এর সাথে কথা হলে তিনি
বলেন, আমি স্কুল জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত আছি।ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চাই।তারই ধারাবাহিকতায়
ইউনিয়নবাসীর চাওয়ায় আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চায়। যদি দলীয় ভাবে আমাকে নমিনেশন দেয় তবে আমি
আশা রাখি আমি এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।সাধারণ মানুষের সেবা করাটায় মূল লক্ষ্য আমার। উল্লেখ্য
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০২১ এর তফসিল ঘোষণার দিনক্ষন পিছিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণা মার্চের ১ম
সপ্তাহে। প্রথম ধাপে ৩২৩ ইউনিয়ন ও ৯ পৌরসভার ভোট গ্রহন ১১ এপ্রিল। প্রথম ধাপে ১১ই এপ্রিল ফকিরহাট উপজেলার ৭ টি
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *