ফুলবাড়িয়ায় কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি এমপি মোসলেম উদ্দিনের ক্ষোভ প্রকাশ

সারাবাংলা

ময়মনসিংহ অফিস:
করোনা মহামারিতে ফুলবাড়িয়াসহ দেশে মৃত্যুবরণ কারীদের আল্লাহ তায়ালা যেন শহিদের মযাদা দান করে এই প্রার্থনা করে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মোসলেম উদ্দিন এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের শাসন আমলের সার চাওয়ায় ২৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে কৃষক গভীর নলক‚প চালু করতে পারেনি। বর্তমান সরকারের আমলে সার ও বিদ্যুতের কোন অভাব নেই। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা অবহিতকরন সভায় গতকাল মঙ্গলবার ফুলবাড়িয়ার নোঙ্গর কমিউনিটি সেন্টারে তিনি এ সব কথা বলেন। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মতিউজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মোসলেম উদ্দিন এমপি বলেন, দেড় বছর হয়েছে যোগদান করেছেন। একদিনও যোগাযোগ করার তাগিদ অনুভব করেননি। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আজকের এই সভায় উপস্থিত থাকার বিষয়ে গুরত্বে সহকারে বলেননি, তাই তিনি এই সভায় হয়তবা উপস্থিত হননি। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, এলাকার উন্নয়নে আমি ঢাকায় থেকে প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে ঘুরে ঘুরে জন চাহিদা পুরণে উন্নয়ন তহবিল ছাড় করাতে দৌড়ঝাপ করি। আগামী দুই মাসের মধ্যে আরো শতকোটি টাকার কাজ শুরু হবে। এছাড়া বর্তমানে ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। যখন জানতে পারি ফুলবাড়িয়া থেকে এডিপির কোটি টাকা কাজ করায় এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছা ও আগ্রহে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের ৪ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখ জনক। তিনি আরো বলেন, চলতি অর্থ বছরে কর্মসৃজন কর্মসুচির প্রথম ধাপে ২ কোটি এবং ২য় ধাপে আরো ৪ কোটি টাকার কাজ এখন হয়নি। এ টাকা যাতে ফেরত না যায়, সেই লক্ষে সময় বৃদ্ধির দাবিতে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে কারণ উলে­খ করে ডিসি, বিভাগীয় কমিশনারসহ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতি আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমন ও আউস মৌসুমের বাইরে অতিরিক্ত বোর ফসল আবাদের মাধ্যমে খাদ্য ঘাটতি পুরণ করে দেশের মানুষকে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে কৃষকদেরকে বিনা পয়সায় গভীর নলকূপ বরাদ্দ দিয়েছেন। আর তারই কণ্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চাহিদা পুরণ করেছেন। মোসলেম উদ্দিন এমপি আরো বলেন, জনসংখ্যা বাড়ছে। সম্পদ বাড়েনি। সীমিত সম্পদের মধ্যেই বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক ফলনসীল ধান উৎপাদনে কৃষি বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। ফুলবাড়িয়ায় আউস ও গ্রীষ্মকালীন পেয়াজ আবাদে জনপ্রতিনিধি, কৃষক, রাজনীতিকদের সমন্বয়ে পৃথক পৃথক সভা সেমিনার করে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা করার আহবান জানিয়ে বলেন, কোন জমিতে কি ফসল আবাদ সম্ভব এবং কাদেরকে প্রনোদনা দেয়া হচ্ছে এ সব তালিকা প্রণয়নে আরো স্বচ্ছতা আনতে হবে।
এর আগে বার্মি কেম্পাস্ট উৎপাদনকারী কৃষক কাকলীর হাতে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ-২ প্রকল্পের আওতায় কৃষক কাকলীকে একটি মিনি ট্রাক ও ট্রাকের চাবি তুলে দেন মোসলেম উদ্দিন এমপি। মোসলেম উদ্দিন ফুলবাড়িয়ায় পৌছলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, পৌরসভার মেয়র গোলাম কিবরিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন শর, পারভীন সুলতানা, উপজেলা কৃষিঅফিসার জেসমিন নাহার বক্তব্য রাখেন। এর আগে স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ জিয়াউর রহমান প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং করণীয় নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *