ফুলবাড়ী পৌরসভা নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

সারাবাংলা

জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর থেকে :

আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীতে ৪ মেয়র প্রার্থীর পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। প্রতিদিন তীব্র কুয়াশা ও শীতকে উপেক্ষা করে ভোর থেকেই পৌরসভা এলাকায় গণসংযোগে নেমে পড়েছেন ৪ পৌর মেয়র প্রার্থী। তবে এলাকায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে চুলচেরা বিশেষণে ব্যস্ত সচেতন ভোটাররা। প্রার্থীদের গায়ে স্যুয়েটার, কেউবা চাদর জড়িয়ে তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাক ডাকা ভোরেই গণসংযোগে নেমে পড়েছেন। এই পৌরসভা নির্বাচনে সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের মো. শাহাদাৎ আলী সাহাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী, বর্তমান মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জগ প্রতীকের মর্তুজা সরকার মানিক ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীকের শিল্পপতি মাহমুদ আলম লিটন। প্রার্থীরা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে দোকানপাট, ফসলের মাঠ ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। তবে এলাকার রাস্তাঘাট, লাইটিং ব্যবস্থা, আধুনিক পৌরসভা গঠন ও নর্দমা ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেবেন এমন ব্যক্তিকেই ভোট দিতে চান সচেতন ভোটাররা।

সরেজমিনে বর্তমান মেয়র মর্তুজা সরকার মানিক জানান, আমি পরপর ২ বার ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। আমি খেটে খাওয়া মানুষের পাশে সব সময় আছি। আমি কৃষক শ্রমিক, দিনমজুরকে নিয়ে পথ চলতে ভালেবাসি। তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে পরপর ২ বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। আমি তাদের পাশে সব সময় ছিলাম, আছি ও থাকবো। যদি পৌরবাসী পুনরায় নির্বাচিত করে তাহলে পৌরসভার ৭০ ভাগ উন্নয়ন করেছি অবশিষ্ট ৩০ ভাগ উন্নয়ন এখনও করতে পারিনি, যা বর্তমান চলমান অবস্থায় রয়েছে। সেটা সম্পন্ন করব এবং ফুলবাড়ীকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে যা যা করণীয় তা বাস্তবায়ন করবো। করোনাকালীন সময়ে আমি প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছি, বর্তমানে সেট অব্যাহত রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীকের শিল্পপতি মাহমুদ আলম লিটন বলেন, আমার পিতা মরহুম নুরুল হুদা ফুলবাড়ী পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন আমার পিতা এলাকার জনগণের জন্য অনেক উন্নয়ন করেছেন। আমি তার অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে ফুলবাড়ী পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভার পাশাপাশি এলাকার রাস্তা-ঘাট, নর্দমা ব্যবস্থা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।

ধানের শীষ প্রতীকের মো. শাহাদাৎ আলী সাহাজুল ইসলাম বলেন, আমি পৌর মেয়র নির্বাচিত হলে ফুলবাড়ী পৌরসভাকে মডেল পৌরসভার পাশাপাশি এলাকার রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অর্জনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী বলেন, আমি পৌর মেয়র নির্বাচিত হলে ফুলবাড়ী পৌরসভাকে ঢেলে সাজাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এলাকার রাস্তা-ঘাট, লাইটিং ব্যবস্থা, আধুনিক পৌরসভা গঠন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিব। আমার কোনো চাওয়া-পাওনা নেই। আমি জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চাই। জনগণের চাহিদা পূরণে আমি সবসময় তাদের পাশে থেকে কাজ করে যেতে যাই।

প্রথম শ্রেণির ফুলবাড়ী পৌরসভায় এবার মোট ভোটার ২৭ হাজার ৯শ ৩১ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৫৫২ ও নারী ভোটার ১৪ হাজার ৩৭৯ জন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী পৌরসভার ১০টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিরামহীনভাবে বিকাল ৪টা শেষ হবে। এবারে সব ভোট কেন্দ্রে ইলেকট্রিক ভোটিং যন্ত্র (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবার কোনো ব্যালট পেপার থাকছে না। এবার ইভিএমপি পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফুলবাড়ী পৌর এলাকার জনগণের মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *