ফেসবুক বিড়ম্বনা

জাতীয় লিড

মনজুরুল বারী নয়ন: আমি বরাবরই ফেসবুককে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবেই মনে করি। কিন্তু আজকের দুনিয়ায় এটি আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নেই। এটা হয়ে গেছে তথাকথিত গণমাধ্যম। এই যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করতে গিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ফেসবুক ব্যাধিতে আসক্ত। বলতে বাধ্য হচ্ছি আমি নিজেও ফেসবুক বিড়ম্বনায় পড়েছি একাধিকবার। ফেসবুকে কোনো ছবি আপলোড, স্ট্যাটাস অথবা কনটেন্ট দিয়ে থাকি আমরা। দেয়ার পর চোখ রাখি কে কত লাইক, কমেন্ট করলো। এই যে একটা ভার্চুয়াল তথা যান্ত্রিক লাইক কমেন্টের লোভ এটা এক ধরনের আসক্তি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাধির মতো। আমার মতো গণমাধ্যম কর্মীদের এধরনের লোভ থাকা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কেননা, আমরা সবাই বাস্তব জীবনে রিপোর্ট বা ছবি তুলতে গিয়ে সরাসরি অনেক লাইক, কমেন্ট পুরস্কার তিরস্কার পেয়ে থাকি। তাহলে আমাদের যান্ত্রিক লাইক, কমেন্টের প্রতি লোভ থাকবে কেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই লোভ থাকাটা স্বাভাবিক। একজন সংবাদকর্মী সাধারণ মানুুুুষের চেয়ে অনেক আলাদা হবেন। তাই বলে আমি কোনও মানুষকে খাটো করে দেখছি না। ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে আমার মতো অনেকেরই প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। যে সময়টা আমি আমার পেশায় দিলে পেশার উৎকর্ষতা বাড়বে, বাড়বে ব্যবসার আয়, বাঁচবে মূল্যবান সময়, ভালো থাকবে স্বাস্থ্য ও শরীর। দীর্ঘসময় ফেসবুকের কারণে মোবাইল, ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখেরও মারাত্নক ক্ষতি হয়। ফেসবুক ব্যবহার সীমিত অথবা না করলে এই সমস্যাগুলো হবে না। আমার মতো সংবাদকর্মী যারা, তাদের তো নিউজ, ছবি, অভিব্যক্তি এমনকি যে কোনো কনট্যান্ট প্রকাশের বিশাল ও নির্ভরযোগ্য ক্ষেত্র আছে। যার নাম গণমাধ্যম। সেটা প্রিণ্ট অথবা অনলাইন নিউজ পেপার, রেডিও টেলিভিশনও হতে পারে। গণমাধ্যম তো ফেসবুকের চেয়ে হাজারগুণ শক্তিশালী ও গণমানুষের আস্থাশীল। যেখানে পুরো পৃথিবীতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা আড়াইশ কোটি সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচশ’ কোটি। সরাসরি অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই গণমাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচারিত যে কোনো খবর বা ছবি সারা পৃথিবীতে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক তো নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। যারা ফ্রেন্ড বা ফলোয়ার তারাই শুধু একজনের আপলোড করা ছবি বা খবর দেখতে পান। ফেসবুক বিড়ম্বনা নিয়ে বলার আগে শক্তিশালী এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করছি। যদিও এসব তথ্য-উপাত্ত অনেকেরই জানা। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনিয়ায় সর্বপ্রথম ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করা হয়। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র মার্ক জাকারবার্গ তার তিন বন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক তৈরি করেন। জনপ্রিয় ও শক্তিশালী এই ওয়েবসাইটটি প্রাথমিকভাবে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে পৃথিবী ব্যাপী আড়াইশ কোটিরও বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। শুরুতে চলার পথে ফেসবুক বেশ কিছু বাধার সম্মুখীনও হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছে। যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের প্রতি মাসের হিসাব দিয়ে থাকে পোল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নেপোলয়িনক্যাট। তাদের মতে, ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের ৪ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। যা মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ। এর মধ্যে নারী ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ ও পুরুষ ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ। ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যাই বেশি। এদের সংখ্যা ২ কোটি ১২ লাখ। দেশে ২০২০ সালের এপ্রিলে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭৫ হাজার। একই সময়ে দেশে মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৯৩ লাখ ৯১ হাজার। এটা এক বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজারে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি হলেও ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সেই তুলনায় অর্ধেকের কম। বাংলাদেশে প্রথম ফেসবুক ব্যবহার শুরু হয় ২০০৬ সালের ২২ আগস্ট। পৃথিবীর সবগুলো শহর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী আছেন তার মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয়। ঢাকায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। আর ব্যাংককে রয়েছে ৩ কোটি ফেসবুক ইউজার। ব্যাংকক শহর হচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে প্রথম। এখন আমি ফেসবুক ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো নিয়ে আলোচনা করছি। এটা ব্যবহারের সুবিধাগুলো হচ্ছে বিনামূল্যে চ্যাট করার সুবিধা, ভিডিও চ্যাটিং-এর মাধ্যমে বহু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা, নতুন নতুন ছবি ও ভিডিও আপলোড করা, মনোরঞ্জন করা, পুরনো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়া, নতুন নতুন তথ্য আদান প্রদান, মেমোরি বা অতীতকে বারবার দেখে নেয়া। নিজেকে আপডেট রাখা, নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করা, অনলাইন ব্যবসা তৈরি করা, নিজের গ্রুপ এবং পেজ বানানো ইত্যাদি। কুফলগুলো হচ্ছে- নিজের প্রাইভেসি এবং সিকিউরিটি নষ্ট করা, স্বাস্থ্য ও শরীরের ক্ষতি, মানসিক চাপ সৃষ্টি, লাইক ও কমেন্ট পাওয়ার আসক্তি মূল্যবান সময় নষ্টকরা, অন্যকে দেখে নিজেকে ছোট মনে করা, ফেইক ফেসবুক একাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া, পরিবার পরিজন থেকে দূরে সরে যাওয়া, ভার্চ্যুয়াল দুনিয়াকে সত্যিকার দুনিয়া ভাবা ইত্যাদি। দেশে ২০০৬ সাল থেকে ফেসবুক ব্যবহার শুরু হলেও আমি শুরু করেছি ২০১২ সাল থেকে। আমার ফেসবুক একাউন্টটিও আমার এক সহকর্মী আমাকে ওপেন করে দিয়েছেন। ৯৬ সাল থেকে ঢাকায় সাংবাদিকতা শুরু করলেও আমি কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করি ২০০০ সাল থেকে। এখনো আমি তথ্য-প্রযুক্তিতে ততটা জ্ঞান রাখি না। কাজের ক্ষেত্রে যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি জানার চেষ্টাও করা হয় না। এখনও মাঝেমধ্যে আমি রিপোর্ট লিখি কাগজেকলমে। পরে অফিসের সহকর্মীদের কাউকে দিয়ে টাইপ করিয়ে নেই। দীর্ঘ দশ বছর আগে আমি ফেসবুক একাউন্ট ওপেন করলেও শুরুতে খুব একটা ব্যবহার করতাম না। হঠাৎ মাসে সপ্তাহে ফেসবুক আইডি খুলে দেখতাম কে কে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন। কেউ কিছু লিখছে কি না, নতুন কোনো তথ্য বা খবর কেউ আপলোড করছে কি না ইত্যাদি। আমি বরাবরই ছিলাম একজন আত্মপ্রচার বিমুখ মানুষ। ফেসবুকে আসক্ত হয়ে লাইক কমেন্টের লোভে পড়ে হয়ে গেছি আত্মপ্রচারমুখি।২০২০ সালের  ২৬ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। আমি মূলত খেটে খাওয়া একজন অতি সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ ২৫ বছর বিভিন্ন সংবাদপত্রে চাকরি করেছি রিপোর্টার হিসাবে। ছিলাম ক্রাইম রিপোর্টার। দীর্ঘ চাকরি জীবনে সততার সঙ্গেই কাজ করার চেষ্টা করেছি সবসময়। ক্রাইম রিপোর্টারদের একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের পরপর দুইবারের নির্বাচিত সহসভাপতি এবং একবার অর্থ সম্পাদক ছিলাম। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির তিনবারের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নেরও একজন সক্রিয় সদস্য। ২০২০ সালে লকডাউন শুরু হলে বেশ ক’মাস অফিস, বাসা, বাজার ও অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া হয়নি। মূলত ওই সময়ই আমি মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটে মুভি, নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। পাশাপাশি আসক্ত হই ফেসবুকের দিকে। কম ব্যবহার করার কারণে দীর্ঘ একদশকেও আমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্ট নাতিদীর্ঘ হয়নি। বর্তমানে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড ১২শ’ ৬৫ জন। ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছেন ৮৬২ জন এবং ফলোয়ার মাত্র ১২৫ জন। ইতোমধ্যে আরো বেশ কয়েকজনকে ছেঁটে ফেলেছি। আমি কেন ফেসবুক ব্যবহার করি, এটা নিজেকেই প্রশ্ন করছি বারবার। উত্তর একটাই পেশাগত ও আসক্তির কারণে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নিজেকে আপডেটেড রাখতে আমাকে এই মাধ্যমটি ব্যবহার করতে হয় দিনে একাধিকবার। যতবার ফেসবুক ওপেন করি ততবারই মেসেঞ্জারও ওপেন করি। সম্প্রতি ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে গিয়ে একাধিকবার বিড়ম্বনার শিকার হয়েছি। সবশেষ বিড়ম্বনার শিকার হলাম গত ২৬ অক্টোবর রাতে। ওই রাতে আমার এক ফেসবুক ফ্রেন্ড আমাকে বললেন, ভাই আপনার কি অন্য নামে আরো কোনো ফেসবুক আইডি আছে কি না? জবাবে আমি বললাম নেই। উনি আবারো একই কথা জিজ্ঞেস করলেন, আমি বললাম নেই। তখন আমার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাকে বারবার অনুরোধ করলাম বিষয়টি বিস্তারিত জানাতে, কিন্তু তিনি সঠিকভাবে কিছু বললেন না। আমার নামে আর একটা ফেইক আইডির কথা শুনে আমার রাতে ঘুম হলো না। বহু অনুনয় বিনয় করার পর ২৭ অক্টোবর দুপুরে উনি বললেন, ফুলবাড়িয়ার দুই যুবকের কথা। যারা ফেইক আইডি বানিয়েছে। তাদের একজন একটি সরকারি কলেজের শিক্ষক অন্যজন প্রাইভেট ব্যাংকের কর্মকর্তা। দু’জনই দেশের স্বনামধন্য পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সমাজেও তারা প্রতিষ্ঠিত ও ব্যাপক পরিচিত। বিশাল বড় মানুষ তারা। আমার যে ফেসবুক ফ্রেন্ড তিনিও সমাজের অনেক উঁচু তলার মানুষ। এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি তার। এত আকাশ ছোঁয়া যাদের অবস্থান তাদের নাম উল্লেখ করলাম না। আমি চাই না কথিত গগণচুম্বি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষগুলোকে সমাজের কাছে ছোট করতে। আমি একজন ছাপোষা সম্পাদক হিসেবে এত বিশাল বড় মানুষগুলোর মুখোশ উন্মোচন করা থেকে বিরত থাকাই যৌক্তিক মনে করছি। আমার ওই ফেসবুক ফ্রেন্ড আমার আরও একটি ফেইক আইডির কথা বলে আমাকে মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক ক্ষতির সম্মুখিন করেছেন। চারদিন ধরে আমাকে মানসিক অশান্তিতে রাখলেন। তিনি এটাকে নিছক ফান হিসেবেই নিয়েছেন। উনি ফেসবুক মেসেঞ্জারে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তাতে আমার ফান ছাড়া কিছুই মনে হয়নি। আমার ফেইক আইডি সম্পর্কে জানতে বারবার তাকে অনুরোধ করলে তিনি প্রথমে বলেন, এমনিই বললাম। পরে বলছেন অমুক অমুক করেছে। একপর্যায়ে তিনি বললেন, আপনি আমাকে আনফ্রেন্ড অথবা ব্লক করে দেন। তার কাছে আমার প্রশ্ন, ওই ফেইক আইডিটি উনি শুধু একা দেখেছেন, না আরো কেউ দেখেছে। ওই আইডি সম্পর্কে বলতে যদি এত অসুবিধাই হয় তাহলে তিনি আমাকে প্রাথমিক ইনফরমেশন কেন দিলেন। এর সবগুলো উত্তর উনার জানা, আমার জানা নেই। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ফেইক আইডি কোনো ছেলেখেলার বিষয় নয়। উনি আমার সঙ্গে সবশেষ যে ভাষায় কথা বলেছেন সেগুলো রীতিমতো আক্রমণাত্মক, মানহানিকর ও প্রচণ্ড অপমানজনক। উনাকে বলছি, আপনার কারো সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা নাও হতে পারে, আপনি তাকে অপছন্দও করতে পারেন। তাই বলে তাকে অপমান করতে পারেন কি না তা আপনার বিবেকের কাছেই প্রশ্ন রাখলাম। যাদের গল্প এতক্ষণ বললাম ওই তিনজনই আমার পূর্ব পরিচিত। জরুরি কাজ ফেলে তাদের সময় দেয়া ও গুরুত্ব দেয়াটাকে তারা আমার দুর্বলতা ভাবছেন। আপনারা যাই ভাবেন আমি সবধরনের মানুষকেই গুরুত্ব দেই। যে পেশায় আছি এখানে তাই শিখে এসেছি। আমি এখনও শিখছি। যতদিন বাঁচবো দেখবো, শিখবো। আপনাদের মতো রাজনীতিক, ব্যাংকার, শিক্ষক এসব শিক্ষাই দেবেন মানুষকে। আরো দু’একটি বিষয় না বললেই নয়। আমি ফেসবুকে ছবি আপলোড করাও জানতাম না, জানতাম না সেলফি তোলা। গত কয়েকদিন আগে খেয়ালের বসে একটি সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড করি। আমার একমাত্র মেয়ে ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে পিইসি পাশ করেছে। ২০১৯ সালে ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার শ্রেষ্ঠ স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় ২৬শ’ ছেলেমেয়ের মধ্যে প্রথম এবং নর্থ সাউথ স্কুলেও ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়। আমি এসব ছবি কখনো ফেসবুকে আপলোড করিনি। দীর্ঘ তিনদশক সাংবাদিকতা জীবনে আমি ৯টি দেশ ভ্রমণ করেছি, আমার জীবনে অনেক ঘটনা দুর্ঘটনা আছে। অনেক সেলিব্রিটি, মন্ত্রী, এমপি আমলার সঙ্গেও বহু ছবি আছে। কখনো এসব ছবি ফেসবুকে দেইনি। সম্প্রতি ফেসবুকমুখী হয়ে আমার সামাজিক, শারীরিক, মানসিক এমনকি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কয়েকমাস আগে দুইজন ফেসবুক বন্ধুকে আর্থিক সাহায্য করতে গিয়ে দেখি তাদের আইডি ভুয়া। পরে আমার পরিচয় পেয়ে তারা তাদের আইডি দুইটি মুছে ফেলেছে। এখনও মাঝেমধ্যে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে। আমারতো ফেসবুক ছাড়াও অভিব্যক্তি প্রকাশ, খবর লেখা, ছবি আপলোড এবং আপডেট খোঁজখবর রাখার আরো মাধ্যম আছে। তাহলে কেন কথিত গণমাধ্যম ফেসবুকের স্মরণাপন্ন হবো। পরিশেষে আমার এই লেখা যাদের উদ্দেশ্যে তারাসহ দেশবাসীর অন্তত একজনের নজরে আসলেও আমার স্বার্থকতা। এদিকে আমার এই লেখাটা যখন লিখছি, তখনই ঘোষণা এসেছে ফেসবুকের করপোরেট নামটি পরিবর্তনের। ফেসবুক এখন মেটা নামে পরিচিত হবে। মেটার অধীনে থাকবে ফেসবুক। ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপসগুলো থাকবে আগের মতোই। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ২৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন । আশা করি, নতুন করপোরেট নামের এই ফেসবুক আগের মতো তথাকথিত গণমাধ্যম না হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
লেখক : সম্পাদক, ঢাকা প্রতিদিন ও ডেইলি নিউজ মেইল

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *