ফ্লোরিডায় বহুতল ভবন ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৯

আন্তর্জাতিক

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি বহুতল ভবন ধসের ঘটনায় সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে নয় জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ১৫০ জনের খোঁজ এখনও মেলেনি। উদ্ধারকারী দলগুলো রোববার চতুর্থ দিনের মতো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে গেলেও জীবিত কারও সাড়া পায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মায়ামির সাগর তীরবর্তী সার্ফসাইড এলাকায় চ্যামপ্লেইন টাওয়ার্স সাউথ নামের ১৫৬ ইউনিটের ১২তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটির বড় একটি অংশ স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে ধসে পড়ে। ঘটনার সময় ভবনটির অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমিয়ে ছিলেন। কী কারণে ভবনটির একটি অংশ ধসে পড়ল তা পরিষ্কার হয়নি। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রকৌশলীদের একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ৪০ বছরের পুরনো ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং গ্যারেজে কাঠামোগত অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

১৯৮১ সালে নির্মিত এ ভবনটিতে সংস্কার কাজ চলছিল বলে জানিয়েছে কর্মকর্তারা।

উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভবনটির নিখোঁজ বাসিন্দাদের জীবিত উদ্ধারের আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছে। ভবনের তলাগুলো ধসে পড়ে কেকের স্তরের মতো একটি ওপর আরেকটি স্তূপীকৃত হয়ে আছে। ওই ধ্বংসস্তূপ সরালে ভেতরে চাপা পড়া অনেক মৃতদেহ মিলবে বলে উদ্ধারকর্মীদের ধারণা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্তূপীকৃত তলাগুলোর ফাঁকফোকরে বাতাস আছে এমন কোনো জায়গায় উদ্ধারকারীরা জীবিত কাউকে খুঁজে পেতে পারেন এমন আশা এখনও আছে।

স্থানীয় দমকল বাহিনীর প্রধান অ্যালান চমিনস্কি বলেন, “এখানে পরিস্থিতি খুবই কঠিন, তারপরও আমরা আশা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এটাই এখন আমাদের বড় শক্তি। কুকুর, ক্যামেরা, সোনার, ইনফ্রারেড স্ক্যানার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের খুঁজে দেখছেন, ভেতরে জীবিত কারও উপস্থিতি পাওয়া যায় কি না। এখনও যতজন নিখোঁজ আছেন বলে জানানো হয়েছে, তাতে এ বিপর্যয় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অনিচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী ভবন ধসের অন্যতম ঘটনা হয়ে যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *