বদরগঞ্জে শিক্ষক পরিবার অবরুদ্ধ

সারাবাংলা

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের বদরগঞ্জে শিক্ষক পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে দুস্কৃতকারী প্রতিবেশী। অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা বাড়ীর বাহিরে বেরুতে না পেরে বন্দি দশায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। এমনকি থানায় অভিযোগ করেও কোন ফল না পেয়ে তারা এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খাগড়াবন্দ শাহ্ পাড়া গ্রামে। জানা যায়, ওই গ্রামের শিক্ষক শওকত আলী তার পৈত্রিক সম্পত্তির উপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছেন। সম্প্রতিকালে ওই যাতায়াতের রাস্তারটির মালিকানা দাবী করে দুস্কৃতকারী প্রতিবেশী আব্দুল আজিজ, মনিরুজ্জামান ফিরোজ ও তাদের লোকজন। এ কারণে শওকত আলী রংপুর বিজ্ঞ আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু আইন অমান্যকারী প্রতিবেশীরা গত বুধবার বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জারিকৃত সম্পত্তির গাছের ডালপালা কেটে নিয়ে যায়। এসময় শওকত আলীর পুত্রবধূ ফারজানা খাতুন দুস্কৃতকারীদের কৃতকর্মের প্রমান সংগ্রহের জন্য তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারন করলে প্রতিপক্ষরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বেদম মারপিট করে। তার আত্মচিৎকারে অসুস্থ শিক্ষক শওকত আলী পুত্রবধূকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষরা তাকে ধরেও মারধর করা হয়। পরে আশেপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিতসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শিক্ষক শওকত আলী বাদী হয়ে প্রতিবেশী আব্দুল আজিজ ও মনিরুজ্জামান ফিরোজসহ ৮জনকে অভিযুক্ত করে বদরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদেও বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষক শওকত আলী বলেন, দুস্কৃতকারীরা আমার কাছে দুই লক্ষ টাকা দাবী করেছিল। তারা টাকা না পেয়ে ক্ষমতার বলে আমার চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে আমার পরিবারের সদস্যরা বাড়ীর বাইরে যাতায়াত করতে না পেরে অতিকষ্টে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষরা শুধু আমাদের মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি উপরোন্ত আমার পুত্রবধু ফারজানা খাতুনের মোবাইল ফোন ও তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে মনিরুজ্জামান ফিরোজ বলেন, তারাও আমাদের মারধর করেছে এ জন্য আমরাও তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি। এ প্রসঙ্গে বদরগঞ্জ থানার ওসি আরিফ আলি বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *