বন্ধ হচ্ছে 'পাবনা সুগার মিল'

বন্ধ হচ্ছে ‘পাবনা সুগার মিল’

অর্থ ও বাণিজ্য সারাবাংলা

অনলাইন ডেস্ক : বন্ধ ঘোষিত হতে যাচ্ছে ঈশ্বরদীর ‘পাবনা সুগার মিল’।

পাবনা সুগার মিল এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সংস্থা দুটি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি
পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলে বিষয়টি চুড়ান্ত করা হবে।

এ ছাড়াও বন্ধের তালিকায় পাবনা সুগার মিল ছাড়াও কুষ্টিয়া, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, শ্যামপুর ও পঞ্চগড়ের আরো ৫ টি
মিল রয়েছে বলে জানা গেছে।

পাবনা সুগার মিল সূত্র জানায়, এ বছর ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই মিল জোনে এ বছর ৫ হাজার ২০০ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে।

এর বিপরীতে কৃষকদের প্রায় ৪ কোটি টাকা ঋণও প্রদান করেছে মিল কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ আখচাষী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত চাষী আলহাজ শাজাহান আলী বাদশা, প্রবীণ
আখচাষী আমজাদ হোসেন মালিথা, আখচাষী নজরুল ইসলাম বিশ্বাস, খন্দকার তৌফিক আলম সোহেলসহ অনেক
আখচাষী জানান, ঈশ্বরদীতে প্রায় ৫ হাজার কৃষক প্রতিবছরের মতো এ বছরও তাদের জমিতে আখচাষ করেছেন।

এ সব আখ এখন কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে। এই মুহুর্তে যদি মিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় তাহলে এই আখ
কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

পাবনা সুগার মিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, এখনো এই মিলে কর্মরত প্রায়
সাড়ে ছয়শ শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন বাবদ মিলের নিকট থেকে পাওনা রয়েছে ৬ কোটি টাকা।

গত ৫-৬ মাস এই মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে মিল বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছেন।

বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মো. মাসুদুর রহমান বলেন, সুগার মিল বন্ধ
করা রুখতে গত ১৬ নভেম্বর ফেডারেশনের যৌথ সভায় এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফুদ্দিন বলেন, অফিসিয়ালি কোনো চিঠি
পাইনি, তবে মৌখিকভাবে শুনেছি মিল বন্ধ হওয়ার কথা।

এ বছর এখন পর্যন্ত আখ মাড়াইয়ের নির্দেশনা আসেনি।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা বলেন, মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের।
কর্পোরেশন থেকে আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি।

মন্ত্রণালয় সম্মত হলে গেজেট করার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালে মিল বন্ধ করা হবে।

মিল বন্ধ করা রুখতে এবং চিনি শিল্প রক্ষার্থে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী
ফেডারেশন দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

আগামী শনিবার থেকে মিলগেটে ফটকসভা, বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং চলতি বছরে আখ মাড়াই মওসুমের তারিখ
নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন চিনি মিলে বয়লার স্লো ফায়ারিং করতে না দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
করেছে শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *