বন্য হাতির দল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

বন্য হাতির দল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : শাবকসহ ২৩টি বন্য হাতির একটি দল কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেতর ঢুকে পড়েছে। আবাসস্থল হারানো খাদ্যের সন্ধানে ছুটে আসা এ হাতির পাল গহীন বন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে পার্কের পশুখাদ্যের বাগানে চলে আসে, আর ভোর হলেই চলে যায়।

এভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে হাতিগুলো পার্কের ভেতর আসা-যাওয়া করছে। এ ঘটনায় পার্ক কর্তৃপক্ষ রেড অ্যালার্ট জারি করেছে এবং দর্শনার্থীদের সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হচ্ছে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে দুই দফায় বন্য হাতির দল পার্কের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। ওই সময় তারা পশুখাদ্যের বাগানে তাণ্ডব চালায় এবং বেশ কয়েকদিন অবস্থান করে। একইভাবে হাতির দলটি গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই পার্কের ভেতরের পশুখাদ্যের বাগানে ঢুকে পড়ে, আবার ভোর হলেই গহীন বনে চলে যায়। ’
তিনি বলেন, ‘এভাবে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করায় পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যেসব এলাকায় বন্যহাতি অবস্থান করছে, সেখানে কিছুদূর পরপর পার্কের কর্মচারীরা অবস্থান নিয়েছে, যাতে পার্কে আগত পর্যটক-দর্শনার্থীরা ভুল করে ওইদিকে যেতে না পারে। ’

জানা গেছে, পার্কের সীমান্তবর্তী এলাকায় জেব্রার বেষ্টনীর কাছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০০ হেক্টর এলাকায় সৃজন করা হয় পশুখাদ্যের উপযোগী বাগান তথা চারণভূমি। সেখানে রোপণ করা হয় প্রায় ১০ হাজার উড়ি আমের চারা। এছাড়াও, এখানে নেপিয়ার ঘাস, প্যারা ঘাস, শাপলা, বাঁশঝাড়, পিটালি পাতা, বৃদ্ধরী পাতা, মেলোনী পাতাসহ পশুখাদ্যের উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির লতাগুল্মের বাগান সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে সেই চারণভূমিই নিরাপদ খাদ্য ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বন্যহাতির দলটি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পার্কের ভেতরে ঢুকছে, আর ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গহীন জঙ্গলে চলে যাচ্ছে।

গত ডিসেম্বর মাসে দুই দফায় বন্যহাতির দল পার্কে ঢুকে পড়ে। ওই সময় হাতিগুলো দুই দলে ভাগ হয়ে পার্কের অভ্যন্তরে তাণ্ডব চালায়। এসব হাতি পার্কের বন্যপ্রাণী আবাসস্থল উন্নয়নে সুফল প্রকল্পের আওতায় ১০০ হেক্টর এলাকায় সৃজিত পশুখাদ্য বাগানের ব্যাপক ক্ষতি করে। এসময় হাতির পাল উড়ি আমের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার চারা নষ্ট করে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *