বরগুনায় অবৈধ ইটভাটায় বৈধ লাইসেন্স

সারাবাংলা

সাইফুল ইসলাম রাফিন, বরগুনা থেকে : বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ লতাবাড়িয়া গ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটায় কোনো বিধি বিধান না মেনেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লতাবাড়িয়া গ্রামের তিন ফসলি কৃষি জমিতে ২০১৯ সালে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ইট তৈরি করে আসছে এসএনডি ব্রিক্স। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য দারুল ইসলাম মাষ্টারের প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে ওঠাসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুরস্কার হিসেবে এ অবৈধ ভাটার বৈধতা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নং ০৪/২০২০।

লাইসেন্স দেওয়ার সময় প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স দেওয়ার শর্তও মানা হয়নি লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ধারা ৮ এর ১নং উপধারায় বলা আছে (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছু থাকুকনা কেন, ছাড়পত্র থাকুক বা না থাকুক এই আইন কার্যকর হইবার পর নিম্নবর্ণিত এলাকার সীমানার অভ্যন্তরে কোন ব্যক্তি কোন ইটভাটা স্থাপন করিতে পারিবে না। এক্ষেত্রে উপধারা ১ এর অনুচ্ছেদ (ক) আবাসিক, সংরক্ষিত বা বানিজ্যিক এলাকা ও অনুচ্ছেদ (ঘ) কৃষিজমিতে ভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা না মেনে ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। উপধারা (২) এ বলা আছে “এই আইন কার্যকর হইবার পর নিষিদ্ধ এলাকার সীমানার অভ্যন্তরে ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কোন আইনের অধীন কোনরূপ অনুমতি বা ছাড়পত্র বা লাইসেন্স, যে নামেই অভিহিত হউক, প্রদান করিতে পারিবে না।” উপধারা (৩) এ বলা আছে “কোন ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত দূরত্বে বা স্থানে ইটভাটা স্থাপন করিতে পারিবে না।” উপধারা (৩) এর অনুচ্ছেদ (ক) নিষিদ্ধ এলাকার সীমারেখা হইতে নূন্যতম ১(এক) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ও অনুচ্ছেদ (ঙ) বিশেষ কোন স্থাপনা রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষনা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠান হইতে কমপক্ষে ১(এক) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে উপরোল্লিখিত আইনগুলো পাশ কাটিয়ে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন ফসলি কৃষি জমিতে ইটভাটার অবস্থান। ভাটাটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। ভাটার ঘেষেই ৪৩নং কে লতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এর পাশে স্থানীয় বাজার, মসজিদ ও দক্ষিন লতাবাড়িয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ভাটার অতি নিকটেই লতাবাড়িয়া কমিউিটিনি ক্লিনিক। অথচ এ সকল স্থানে ইটভাটা স্থাপনের কোন সুযোগ না থাকা স্বত্ত্বেও পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র দিয়েছে। পেয়েছেন জেলা প্রশাসনের লাইসেন্সও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তিরা জানান- ইটভাটাটির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারি না। ভাটার কারণে কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদন অনেক- কমে গেছে। ভাটাটির পাশ্ববর্তী দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় আমাদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রমে অসুবিধা হচ্ছে।

লতাবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হামিদা আক্তার বলেন- ২০১৯ সালে ইটভাটা চালু হয়েছে। মানুষের শরীরে এর খারাপ প্রভাব আস্তে আস্তে দেখা দিবে। বক্তব্য নিতে ভাটায় গিয়ে এর পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (বরিশাল অঞ্চল) মোঃ কামরুজ্জামান সরকারের ওয়েবসাইটে দেওয়া মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অফিসিয়াল টেলিফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- আমি বরগুনায় সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি জেনে ঘটনা সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *