বরগুনায় বিয়ে ছাড়াই যৌতুক মামলা

সারাবাংলা

সাইফুল ইসলাম রাফিন, বরগুনা থেকে
বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বিধবা তাসলিমা আক্তার তার বোনের স্বামী গোলাম মোস্তফার চাচাতো ভাই (বেয়াই) মো. কাওসার মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ে ছাড়াই স্ত্রী দাবি করে যৌতুক মামলা করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তাছলিমা ও কাওসার একে অপরের প্রতিবেশি ও আত্মীয়। তাসলিমার স্বামী দুই ছেলে রাখিয়া ৩ বছর আগে মারা যায়। কাওসার বিবাহিত হলেও তার কোন ছেলে-মেয়ে না থাকায় তাসলিমা কাওসারকে বিয়ে করার কুমতলব করে তার ছেলেকে দিয়ে গত ১৪ আগস্ট কাওসারকে তার বাসায় ডেকে পাঠায়। কাওসার সরল মনে তাদের বাড়িতে গেলে আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে তাসলিমার ভাই মজনু শরীফ ও তার স্ত্রী শারমিন ও অজ্ঞাত ৪/৫ জন মিলে জোর পূর্বক ৬টি একশ টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্টাম্পে সই করান এবং কাজির সঙ্গে আতাত করে বিয়ের বালামে সই করান।
স্থানীয়ভাবে মিমাংশার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কাওসার বাদী হয়ে গত ২৭ আগস্ট ষ্টাম্প উদ্ধারের জন্য মামলা করেন।
পরবর্তীতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাসলিমা বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। মামলার নথি থেকে কাবিন নামা সংগ্রহ করে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলায় যে কাবিন নামাটির ফটোকপি দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ফলে সংশ্লিষ্ট কাজী সেটি বাতিল করেছেন। কাবিনে বিয়ের মৌলভী হিসেবে কবির হোসেন নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কবির হোসেন তাসলিমার দায়েরকৃত মামলার ৮নং সাক্ষী। কিন্তু কবির হোসেন বিয়ে রেজিষ্ট্রার মো. এনামুল হকের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি তাসলিমা ও কাওসারকে চেনেন না এবং এই বিয়ে সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
তাসলিমার মামলার ৮নং সাক্ষী মো. কবির হোসেন বলেন, আমাকে তাসলিমার মামলায় সাক্ষী রাখা হয়েছে। বিয়ের কাবিন নামায় বিয়ে পড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আসলে আমি এর কিছুই জানি না। শুধু একদিন তাসলিমার ভাই একটি মামলার সাক্ষীর কথা বলে আমার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়েছে। পরে আমি এই মিথ্যা মামলার কথা জানতে পেরে আমার স্বাক্ষরকৃত কাগজ ফেরৎ চাইলে সে দিতে অস্বীকার করায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর আমি আমার কাগজ উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করি। কাজী সৈয়দ মো. এনামুল হক বলেন, কাবিনে মিথ্যা তথ্য থাকায় কাবিনটি স্থগিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *