বস্তায় আদা চাষ

সারাবাংলা

মনিরুজ্জামান মনির, জয়পুরহাট থেকে
জয়পুরহাটে এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বস্তায় আদা চাষ শুরু হয়েছে। বাড়ির আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষ করে সফল হয়েছেন সদর উপজেলার দূর্গাদহ গ্রামের জাহাঙ্গীর নামের এক কৃষক। তার এই সফলতা দেখে জেলার অনেকেই এখন আগ্রহ হচ্ছেন আদা চাষে। সে এসএসসি পাশ করে নেমে পড়ে সংসার জীবনে, বাবার সামান্য কিছু জমিতে ধান আলু চাষ করতো আর বাকি সময় বেকার ঘুরে বেড়াতো। মুঠোফোনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের বস্তায় আদা চাষ পদ্ধতি দেখে আগ্রহী হন এই আদা চাষে। জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রথম অবস্থায় তিনি অল্প কিছু বস্তায় আদা চাষে সফল হওয়ায় এবার তিনি ১ হাজার বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। তারপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার বাড়ির আঙ্গিনায়, টিউবয়েলের পার ও পরিত্যাক্ত ফাঁকা জায়গায় ১ হাজার বস্তায় আদার বস্তা রয়েছে। তাতে তার খরচ হয়েছে প্রায় চব্বিশ হাজার টাকা। আদার ফলন ভালো হওয়ায় সেখান থেকে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার আদা বিক্রি হবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর আলমের এই সফলতা দেখে জেলার এখন অনেকেই আগ্রহ হচ্ছেন এই পদ্ধতিতে আদা চাষে। সদর উপজেলার ভাদসা গ্রামের যুবক ইমরান হোসেন জানান, এই পদ্ধতিতে আদা চাষ অনেক সহজ ও খরচ কম, আবার সেই তুলনায় লাভও অনেক বেশি তাই এটি দেখে আমি বস্তায় আদা চাষে আগ্রহ হচ্ছি, আমি জাহাঙ্গীরের কাছে পরামর্শ নেওয়ার জন্য এসেছি। উড়ি গ্রামের সাজ্জাদুর রহমান সাজু জানান, এই পদ্ধতি আদা চাষ আমরা অনেকেই করতে পারি, আমাদের বাড়ির আসে পাশে অনেক পতিত জমি পরে থাকে সেখানে আমরা এভাবে আদা চাষ করে একটা বাড়তি আয় করতে পারি। আমার বাড়ির সামনে অনেক জায়গা রয়েছে তাই আমিও এই পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু করবো।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইছার ইকবাল জানান, পরিত্যাক্ত জায়গায় ও বাড়ির আঙ্গিনায় জাহাঙ্গীর আলমের এই আদা চাষে যারা আগ্রহী হচ্ছেন তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, এই পদ্ধতিতে আদা চাষ বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মূলত বস্তায় আদা চাষ পদ্ধতিতে প্রয়োজন হয় বালি, মাটি, কাঠের গুড়া, ধানের গুড়া ও জৈব্য সার। আর এ পদ্ধতিতে আদা চাষে সময় লাগে আট থেকে নয় মাস।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *