শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ডিইএব জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ শাখার ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন বিশ্ব সম্মেলনে দেশের প্রকৌশল দক্ষতা তুলে ধরেছে আইইবি মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুলে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল শেরপুর – ৩ আসনে নির্বাচনে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা পাইকগাছায় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ন্যায্য মুল্যে নিত্য পণ্যের বাজার উদ্বোধন : চলবে মাস ব্যাপী ভাণ্ডারিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা শেরপুর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের দায়ে এমআরবি ব্রিকসকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা শ্রীপুরে ২২ কোটি টাকার ৭ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারি আটক ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন: শাহাদাত সভাপতি, সোহেল সম্পাদক ফসল রক্ষা বাঁধে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: শাল্লায় জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ সওজ জোনের নতুন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আতাউর রহমান মোহনপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্বৃত্তদের আগুন: এলাকায় উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সায়মা করিম আনোয়ারায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন সরিষাবাড়ীতে “শান্তি- শৃঙ্খলা-উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতায় যুবদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে একটি মোবাইল কোর্টে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা নবীনগরে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহককে অনুসরণের সময় নারী চোর আটক,পুলিশে সোপর্দ কমিউনিটি ব্যাংকের সঙ্গে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের “ওয়ান পার্টনারশিপ, কমপ্লিট প্রোটেকশন” বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যার ঘটনায় নারী উন্নয়ন শক্তির তীব্র প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সেচ-চ্যালেঞ্জ জয় করে নবীনগরে গম চাষে উজ্জ্বল ফলন প্রধানমন্ত্রী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন গ্যাস সংকটে বন্ধ চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড সুনামগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ: আলামতসহ ৩ আসামী গ্রেপ্তার ভৈরবে ৩ বছর ধরে বিনামূল্যে সেহরি করাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা’র কন্যা জোনাকি মিরপুরে এমপি আমিরুল ইসলাম খান আলীমকে সংবর্ধনা বিজিবি’র উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

বাংলাদেশের টাকার নকশাগুলো কার হাতে গড়া, জানেন

অনলাইন ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

ঢাকাপ্রতিদিন অন্যান্য ডেস্ক : বৃষ্টি নামা মাত্রই রাজধানীর একটি টং দোকানে ঢুকেছিলেন এ প্রতিবেদক। গরম চায়ের কাপ হাতে শুনছিলেন দুই তরুণের কথা। একজন ৫০ টাকার একটি নোট হাতে নিয়ে বলছিলেন, ‘বাংলাদেশে এমন চিত্রকর্ম আর কোনো নোটে নেই। কী সুন্দর, না?’ অপরজন সায় দিয়ে বললেন, ‘বাজারে নাকি নতুন নোট আসবে।

জানতেই পারলাম না, আমাদের নোটগুলোর ডিজাইনার কে!’ তাদের পাশেই বসা ছিলেন এক বৃদ্ধ। হাফ শার্ট পরা, মাথায় টুপি, মুখে সাদা দাড়ি, চোখে চশমা। নির্ভেজাল হাসিতে বললেন, ‘এই নোটটার নকশা আমি করেছি।’ বিস্ময়ে হতবাক দুই তরুণ।

কথা বলতেই জানা গেল, এই নিভৃতচারী মানুষটির নাম মুছলিম মিয়া। তিনি বাংলাদেশের সব প্রচলিত নোটের নকশাকার এবং নতুন আসন্ন নোটগুলোর নকশা প্রণয়ন কমিটির সদস্যও।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ধুলদিয়া গ্রামে জন্ম মুছলিম মিয়ার। ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি দুর্দান্ত আগ্রহ।

বাড়ির দেয়াল থেকে শুরু করে আশপাশের ভবন ছিল তাঁর ক্যানভাস। কয়লা, ইটের গুঁড়া, এমনকি পাতা দিয়েও আঁকতেন। বড় ভাইয়ের হাত ধরে এসএসসি পাসের পর ভর্তি হন মোহাম্মদপুরের গ্রাফিক আর্ট কলেজে। যা বর্তমানে চারুকলা অনুষদ হিসেবে পরিচিত। সেখানে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৭৮ সালে।
স্নাতক শেষ করেন ছাপচিত্র বিভাগ থেকে ১৯৮৪ সালে।

চারুকলার পড়া শেষ করে প্রথমে একটি বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করলেও মন বসেনি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের এনগ্রেভার পদের বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। ভাইভা বোর্ডে এক পরীক্ষকের ছবি এঁকে সবাইকে মুগ্ধ করেন তিনি। সেই পরীক্ষকই ছিলেন টাঁকশালের প্রধান প্রকৌশলী। ১৯৮৫ সালে শিক্ষানবিশ এনগ্রেভার হিসেবে টাঁকশালে যোগ দেন। ১৯৮৭ সালে পাঠানো হয় সুইজারল্যান্ডে। সেখানে টাকা ও মুদ্রা খোদাই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। সেখানকার একজন প্রশিক্ষক, ইতালিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের একজন এনগ্রেভার, মুছলিম মিয়ার কাজে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি অনেক দূর যাবে।’

টাঁকশালে ফিরেই শুরু হয় মুছলিম মিয়ার মুদ্রা নকশার প্রকৃত কাজ। স্মৃতিসৌধ, হাইকোর্ট ভবন, সংসদ ভবন, রাজশাহীর বাঘা মসজিদ, শহীদ মিনার—সবই স্থান পেয়েছে তাঁর নকশায়। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ১০ টাকার নীল রঙের নোট, ৫০ টাকার সংসদ ভবন সংবলিত নোট এবং ৫০০ টাকার স্মৃতিসৌধ সংবলিত নোট তাঁর নকশায় অনুমোদিত হয়। এসব নোট ছাপার প্রক্রিয়ায় সুইজারল্যান্ডে গিয়ে কাজ করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে তিনি ডিজাইন করেন ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা, এমনকি দেশের প্রথম ১০০০ টাকার নোটও, যাতে শহীদ মিনারের ছবি ছিল। এ ছাড়াও পলিমারভিত্তিক ১০ টাকার নোট তৈরির প্রক্রিয়াও করেন নিজের বাসার কম্পিউটার ব্যবহার করে, যা সরকারের কয়েক কোটি টাকা সাশ্রয় করে দেয়।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘মই দেওয়া’ শিরোনামের একটি চিত্রকর্ম স্থান পায় ৫০ টাকার নোটে। সেই নোটের ডিজাইনও করেছিলেন মুছলিম মিয়া। কালার সেপারেশনসহ প্রতিটি ধাপে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।

২০১১ সালে একযোগে ২ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নতুন ৯টি নোটের নকশা করেন। ২০২০ সালে টাঁকশালের জেনারেল ম্যানেজার (প্রোডাকশন অ্যান্ড কন্ট্রোল, ডিজাইন অ্যান্ড এনগ্রেভিং) পদ থেকে অবসর নেন। বর্তমানে নিজের স্টুডিওতে সময় কাটাচ্ছেন নীরব এই কারিগর। শত শত কোটি টাকার নোটে যাঁর নিপুণ হাতের ছাপ, তিনি থাকেন প্রচারের আড়ালে।
ঢাকাপ্রতিদিন/এআর


এই বিভাগের আরো খবর