বাংলাদেশে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে আসবে গ্লোবের করোনা ভ্যাকসিন

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গ্লোব সফলভাবে প্রাণীদেহে তাদের করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। এখন হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত। সব ঠিকঠাক থাকলে এবং সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পেলে ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির শুরুতে আসবে গ্লোবের ভ্যাকসিন। এমনটিই জানিয়েছে বাংলাদেশি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।
সোমবার ( ৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গ্লোবের ভ্যাকসিনের অগ্রগতি এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, আমরা ডিসেম্বর-জানুয়ারির ভেতরে ভ্যাকসিন দিতে পারবো। তবে এজন্য তিনি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য আবেদন করেন।

তিনি বলেন, আমরা ডোজ তৈরি করার জন্য প্রস্তুত আছি, গ্লোবের পক্ষ থেকে সব কাজ শেষ, বাকি কাজের জন্য বিএমআরসি (বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল) এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর তথা সরকারের সার্বিক সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছি।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর গ্লোবের অ্যানিমেল ট্রায়ালের ফলাফল বায়ো-আর্কাইভে প্রকাশ হয়েছে। এ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাকন নাগ বলেন, আমরা বলিনি এটা বৈজ্ঞানিক পিয়ার রিভিউ জার্নাল। এটা বৈজ্ঞানিক পাবলিকেশনের আর্কাইভ। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সিআরও ( কন্ট্রাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন) এর সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রটোকল তৈরির কাজ করছে। তাদের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির পর বিএমআরসিতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য জন্য আবেদন করা হবে।

আর সিআরও এর সঙ্গে চলতি মাসেই তাদের চুক্তি হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমআরসির অনুমোদন সাপেক্ষে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কাছে প্রোটোকলসহ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য আবেদন করবেন বলেও জানান কাকন নাগ। তিনি বলেন, বিদেশের প্রতি নির্ভরশীল হলে চলবে না।

গ্লোবের ভ্যাকসিন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে সেটা প্রমাণিত মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুর রহমান বলেন, এ ভ্যাকসিন কার্যকর হবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে মডার্নার চেয়ের বেশি কার্যকর হবে। তাই এ ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দ্রুত শুরু করা দরকার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, গ্লোবের ভ্যাকসিন কার্যকর হবে সেটা আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি। তবে ভ্যাকসিনটি যদি কাজ নাও করে তাতেও কিছু আসে যায় না কারণ এটাও মনে রাখতে হবে, সব গবেষণা সফল হবে না। তবে তাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ দিতে হবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, কোভিড প্রতিরোধ করতে হলে ভ্যাকসিন দরকার। আমরা কেন বাংলাদেশের ভ্যাকসিন চাচ্ছি না—সে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সরকার অন্যান্য দেশ থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা রেখেছে কিন্তু আমাদের টাকায় আমরা কেন নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্লোবকে যেতে হবে অনেক দূর, কিন্তু তারা যে এ পর্যন্ত এসেছে সেজন্য তাদের এপ্রিসিয়েট করতেই হবে।

চীনের সিনোভ্যাক থেকে, অক্সফোর্ড থেকে ভ্যাকসিন আনবে বলে সরকার কথা বলে, কিন্তু তারা বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের নাম নেয় না বলে মন্তব্য করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, যারা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন তারা প্রমাণ করুক গ্লোবের যে ভ্যাকসিন হিউম্যান ট্রায়ালে যাবে সেটা পৃথিবীর কোনও ভ্যাকসিন থেকে কোন অংশে ছোট বা কম। সরকার ভ্যাকসিন কেনার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা রেখে দিয়েছে অথচ সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করে তাহলে এই ভ্যাকসিন রফতানি করে ৫০ হাজার কোটি টাকা দিতে পারবো। এই ভ্যাকসিন অবশ্যই বিশ্বের অন্যতম ভ্যাকসিন হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আশা করি সরকার আমাদের সহযোগিতা করবে যেন যত তাড়াতাড়ি গ্লোবের এ ভ্যাকসিন বাজারে আসতে পারে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার ওপর আমরা নির্ভর করছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *