বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১৩টি ধর্ষণ!

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে’, পরিসংখ্যানে প্রাপ্ত চিত্রটি এমনই ভয়াবহ। ধর্ষণে এতো ব্যাপকতা ও মহামারির মতো প্রকোপ দেখে মানুষ চরমভাবে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।

ধর্ষণ এক ধরনের যৌন আক্রমণ। সাধারণত, একজন ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, যৌনসঙ্গম বা অন্য কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে আইনের ভাষায় ধর্ষণ বলা হয়। বাংলাদেশে এখন এহেন অনাচারের মচ্ছব চলছে বললে ভুল বলা হয় না।

ধর্ষণ শারীরিক বলপ্রয়োগ, অন্যভাবে চাপ প্রদান কিংবা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে। অনুমতি প্রদানে অক্ষম (যেমন- কোনো অজ্ঞান, বিকলাঙ্গ, মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) এরকম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হওয়াও ধর্ষণের আওতাভুক্ত ধর্ষণ শব্দটির প্রতিশব্দ হিসেবে কখনো কখনো ‘যৌন আক্রমণ’ শব্দগুচ্ছটিও ব্যবহৃত হয়।

সাধারণত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ধর্ষণের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায় বলে গবেষকদের দাবি। দুই বিশ্বযুদ্ধ ও অন্যান্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে হত্যার পাশাপাশি ধর্ষণের বহু বর্বর ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিপক্ষের প্রতি হিংসা থেকেই নারীর প্রতি ধর্ষণ নামক সহিংসা চালানো হয়। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ইত্যাদির ব্যাপকতা দেখে পুরো সমাজ আতঙ্কিত, ক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদমুখর।

বাংলাদেশে ২০২০ সালে করোনার সঙ্কুল পরিস্থিতির মধ্যেও জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৭৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২০৮ জন নারীকে। গত দুই মাসে (আগস্ট -সেপ্টেম্বর) ২৩০টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

গত ২৯ দিনের একটি চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এতে দেখা যায়, পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। তাছাড়া, ২০১৮ সালে যেখানে ৯৪৩টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল সেখানে ২০১৯ সালে থানায় নথিভুক্ত হয় ১ হাজার ৫১৩টি ঘটনা।

সিলেটে গৃহবধূকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অপরাধের রেশ মিলাতে না মিলাতেই নোয়াখালী ৩৭ বছর বয়স্ক এক নারীকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি, বিকৃতির চরম প্রকাশ ঘটিয়ে এরপর দুই যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রচার করে। এটা ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তেই।

ফলে সারা দেশে প্রতিবাদের ঢেউ বয়ে গেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়েছে সমাজে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার নারী এক অভিনব প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। তারা প্রোফাইল পিকচার কালো রঙ দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। বলছেন, আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে নারীর কোনো মর্যাদা নেই। তাদেরকে মানুষই মনে করা হয় না। ভার্চুয়াল ফোরামের বাইরে ঢাকার শাহবাগ এলাকাও প্রতিবাদে উত্তাল ছিল। প্রগতিশীল ছাত্রজোট, কতিপয় বামপন্থী দল প্রতিবাদ মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে লাঠিপেটা করে। এতে ৭ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থার মতোই দেশব্যাপী ধর্ষণের চরম বিস্তারের নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণের প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। দরকার হলে বিদ্যমান আইনের সংস্কার করাও আবশ্যক। আর নির্যাতিতদের রক্ষা করতে সরকারকে আইনি সাহায্য ও নিরাপত্তা দিতে হবে, যাতে প্রভাব বিস্তার করে দোষীরা রেহাই না পায়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *