বাংলাদেশে রোহিঙ্গাসহ জাতিগোষ্ঠী ঢলের শঙ্কা! সতর্ক হওয়ার পরামর্শ

জাতীয়

নিউজ ডেস্ক:
রাখাইনে আবারও সৈন্য সমাবেশ ঘটাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এতে সেখানে বড় ধরনের অভিযানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনটা হলে বাংলাদেশের সীমান্তে এবার রোহিঙ্গা ছাড়া অন্য জাতিগোষ্ঠীরও ঢল নামতে পারে। তাই সে ব্যাপারে এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সীমান্তে হঠাৎ করেই সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার। সেই প্রেক্ষিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এর প্রতিবাদ করলে সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয় তারা।

এ বিষয়ে বিজিবির মুখপাত্র লে. কর্নেল সাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা ছেড়ে চলে গেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তারা এখন সেই এলাকায় নেই। তবে রাখাইনের ভেতরে তারা কী করছে, সে সম্পর্কে গোয়েন্দারাই ভালো বলতে পারবেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত বলতে এপার থেকে যতটুকু দেখতে পাওয়া যায় সেই অঞ্চল স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে বসবাস করা রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, তিনিসহ আরও চার হাজারের মতো রোহিঙ্গা ২০১৭ সাল থেকে সেখানে বসবাস করছেন। বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তের এক থেকে দেড় কিলোমিটারের বাইরে অবস্থান করছে। তবে তারা ভেতরে অভিযান বন্ধ করেনি, উল্টো সেখানে সৈন্য সংখ্যা আরো বাড়াচ্ছে।
রাখাইনে অবস্থানরত স্বজনদের কাছ থেকে এ খবর পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের মুভমেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সবাইকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। এমনকি যুদ্ধের ট্যাংকও নিয়ে আসা হয়েছে বলে জেনেছি।

সম্প্রতি জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আবার রাখাইনে গণহত্যা শুরু হয়েছে এবং সেনা সমাবেশের মধ্যেই সেখানে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা নিজেদের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক সামরিক অ্যাটাশে এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাখাইনে সেনা সমাবেশ ঘটানো হচ্ছে বলে মনে হয়। কারণ তাদের সেনাবাহিনী সেখানে নির্বাচন চায় না। মূলত সেনা সমর্থিত দল ইএসডিপি রাখাইনে হেরে যেতে পারে সেই শঙ্কা থেকে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে নির্বাচন বন্ধ করতে চায় তারা।

এবার অভিযান শুরু হলে শুধু রোহিঙ্গা নয়, সেনা সমর্থিত দলের বাইরে যে বৌদ্ধরা আছেন তারাও এর শিকার হতে পারেন জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি এবার বৌদ্ধদের ঢলও সীমান্তে দেখা যেতে পারে। তাই বাংলাদেশকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *