বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের সক্রিয় চোরাকারবারী

সারাবাংলা

মিজানুর রহমান, মোংলা থেকে:
বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের বিদেশী জাহাজ কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ চোরাচালানী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বন্দরের প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে গড়ে ওঠা এ চক্রের শক্তিশালী সদস্যরা বন্দরে আগত বিভিন্ন বিদেশী জাহাজ থেকে নদী পথে জ্বালানী তেল,মবিল, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, মেশিনারিজ, রং, ব্যারেল, সোলার প্যানেল, গ্যাসের চুলা, নানা ধরনের লোহা, ঢাল কাঠ, ওয়ার রোপ, হাসিল (জাহাজ বাঁধার বড় রশি), ইলেকট্রনিক্স পণ্য, নানা ধরনের মাদক (বিদেশি হুইস্কি, বিয়ার, হেরোইন, ইয়াবা প্রভৃতি)সহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র অবাধে পাচার ও লুটপাট করে আনছে।

কাষ্টমস, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বন্দর প্রহরীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারী চক্রের সদস্যরা দিনে রাতে দেদারছে সমানে এসব পণ্য পাচার ও লুটপাট করলেও অবৈধ পণ্য আটকের ঘটনা ঘটছে তুলনামূলক কম। এতে করে সরকার একদিকে যেমন মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরের বৈধ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায় মারাত্মক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিদেশী জাহাজ থেকে চোরাচালানী চক্রের পাচার করে আনা দুটি বড় ধরনের চোরাচালানের চালান আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

এসময় কোস্টগার্ডের হাতে উদ্ধার অবৈধ পণ্য ও আটক তিন চোরাকারবারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্দরের জাহাজের চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত ও একাধিক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়,মোংলা শহরের রিজেকশন গলি, বাইদ্যা পাড়া কানাইনগর, কুমারখারী, কলেজ মোড়, জয়বাংলা, মাদ্রাসা রোড, দিগরাজ, বাজুয়া বাজার, লাউডোব, চিলা বাজার, বানিয়াশান্তা বাজার, মাছমারা, নারকেল তলা, জয়মনির ঘোলসহ বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বিদেশি জাহাজ কেন্দ্রিক গড়ে ওঠেছে শক্তিশালী চোরাচালান চক্র।

এসব চক্রের অসাধু সদস্যরা নদী পথে ট্রলার ও নৌকা যোগে পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত বিদেশী জাহাজের নাবিকদের জিম্মি করে আবার কখনও তাদের সঙ্গে আঁতাত করে প্রতিনিয়ত চোরাচালান পণ্য এনে মোংলাসহ আশপাশের জেলা সমূহে পাচার করছে।

এতে করে সরকার একদিকে মোটা অংকের টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরের বৈধ ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় মার খেয়ে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। গত রোববার ভোর রাতে বন্দরের প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে গড়ে ওঠা এ চক্রের শক্তিশালী সদস্যরা বন্দরে আগত একটি বিদেশী জাহাজ থেকে নদী পথে নৌযান যোগে ৩৯টি ড্রামে ১৯৫০ লিটার লুব ওয়েল (জ্বালানী তেল) ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, গ্যাসের চুলা, গ্যাসের সিলিন্ডারসহ কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র অবাধে পাচার ও লুটপাট করে আনে।

গোপন সূত্রে এ খবর পেয়ে মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা পশুর নদীর জয়মনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী চক্রের নৌযান বোঝাই পাচার করে আনা চোরাচালানের এসব পণ্যসহ ৩ চোরাচালানীকে আটক করে রোববার রাতে মোংলা থানায় হস্তান্তর করে।

আটককৃত চোরাকারবারীরা হলেন, চাদঁপাই ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার বুলু খাঁথর ছেলে নিয়ামুল খাঁ,পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের জয় বাংলা সড়কের রফিকুল ইসলাম ও একই এলাকার মৃত মিনহাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে হারুন হাওলাদার।

এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কমান্ডার নুর মুহাম্মদ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, বন্দরের চ্যানেল তথা নৌ পথের দায়িত্ব কোস্টগার্ডের। আর বন্দরের স্থল ভাগের দায়িত্ব পালন করছে বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীদের। এ ক্ষেত্রে নদী পথের দায়িত্ব বন্দরের সাথে সমন্বয় করে কোস্টগার্ড তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে চলেছে।

অপরদিকে মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধূরী জানান, আটক তিন চোরাচালানীর বিরুদ্ধে সোমবার সকালে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া,বন্দর এলাকায় চোরাচালান বন্ধে পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জোরালো তৎপরতা চালাচ্ছে। কোস্টগার্ডের হাতে জব্দ চোরাচালান পণ্যের সাথে জড়িতদের নেপথ্যের প্রভাবশালী মহলকে পুলিশ খুঁজে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *