বাজছে কাসর ঘণ্টা

সারাবাংলা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
গিরিরাজ কন্যা দেবী দুর্গা দোলায় চড়ে আসছেন ধরাধামে। সঙ্গে আছেন লক্ষ্মী-সরস্বতী, কার্তিক-গণেশ। শেষ হয়েছে অপেক্ষার পালা। নগর ও জেলায় সর্বমোট ২ হাজার ১৮৬টি মণ্ডপে চলছে মাকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। গতকাল বুধবার পঞ্চমী তিথি, সন্ধ্যায় হচ্ছে মায়ের বোধন। তাই মণ্ডপে যাচ্ছেন প্রতিমা। কাঠামো মেনে বসানো দেবীর শিরোদেশে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন দেবাদিদেব শিব। দেবীর ডানপাশে ঐশ্বর্যদাত্রী দেবী লক্ষ্মী, তার পাশে সিদ্ধিদাতা গণেশ, দেবীর বামপাশে বিদ্যা ও জ্ঞানদাত্রী দেবী সরস্বতী, তার পাশে দেব সেনাপতি কার্তিক। এই প্রতিমা কাঠামোর মধ্যে মূল দেবীশক্তি দুর্গা। পঞ্জিকা মতে, আজ বৃহস্পতিবার ষষ্ঠী তিথিতে সন্ধ্যায় শ্রী শ্রী দুর্গাদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, আগামীকাল শুক্রবার সপ্তমীবিহিত পূজা, শনিবার মহাষ্টমী তিথিতে মায়ের পূজা, রোববার মহানবমী বিহিত পূজা এবং সোমবার বিজয়া দশমীতে পূজা শেষে মায়ের গমন গজে (হাতি) চড়ে।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার বলেন, চট্টগ্রামের ১৬টি থানায় ২৭৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে জে এম সেন হল এ উপলক্ষ্যে বস্ত্রদান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, জাগরণ পুঁথি পাঠ, প্রতিদিন সন্ধ্যারতি এবং বিজয়া দশমীর পূজা শেষে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এবার করোনার সংক্রমণ রোধে সৈকত প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, উত্তর জেলার অধীনে মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এবং ফটিকছড়ির ভূজপুর ও মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানাসহ ৭৬৯টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পরিমল দেব বলেন, কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের ২৬ দফা মেনে শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য দক্ষিণ জেলার অধীন পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব বলেন, এ বছর চট্টগ্রাম জেলার আওতাধীন ১৫ উপজেলায় ১ হাজার ৫২৪টি ও পারিবারিক ৩৮৯টি সহ মোট ১ হাজার ৯১৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। করোনা মহামারীর কারণে এবার উৎসব পরিহার করে মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতায় হবে মায়ের পূজা।
শাস্ত্র বলে, দোলায়াং-মড়কং-ভবেৎ। অর্থাৎ মা দোলায় এলে দেখা দেয় মড়ক। আবার
গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা। অর্থাৎ মা যদি গজে গমন করেন তাহলে পৃথিবীতে জলের সমতা বজায় থাকে এবং শস্য ফলন ভালো হয়। সুখ সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ থাকে মর্ত্যভূমি।
শাস্ত্র আরও বলছে, লক্ষ্মী-সরস্বতী দুর্গার কন্যা বলেই অনেকের ধারণা। অথচ শ্রীলক্ষ্মী দেবী দুর্গার কন্যা নন, তিনি সমুদ্র মন্থনে সমুদ্ভূতা। আর শ্রীসরস্বতী হলেন ব্রহ্মার মানসকন্যা। শ্রীকার্তিক ও শ্রীগণেশ দেবী দুর্গার পুত্র। কার্তিক বড়, গণেশ ছোট। দুর্গাপূজায় কলা, কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, বেল, দাড়িম্ব, অশোক, মান, ধান্য (ধান)-এই নয়টি গাছ একত্র করে শ্বেত অপরাজিতা লতা দ্বারা বেঁধে তার সঙ্গে দুটি বেল দিতে হয়। পত্রের সঙ্গে এই নয়টি জিনিষ একত্র করে দেওয়া হয় বলে এটি নবপত্রিকা। নবপত্রিকা বা কলা-বৌ হলেন কার্তিক ও গণেশের মা। এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রত্যেক মণ্ডপের জন্য এ পর্যন্ত ৫০০ কেজি করে ১ হাজার ৮৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী এসব চাল বরাদ্দ দেয় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *