বাজারে নেই মোটা চাল, চিকন চালে ঝুঁকেছেন ভোক্তা

অর্থ-বাণিজ্য

অর্থনীতি ডেস্ক: বাজারে মোটা জাতের চাল নেই প্রায় একমাস যাবত। ফলে চিকন চালের দিকে ঝুঁকেছেন ভোক্তারা। একদিকে মোটা জাতের চাল না থাকা এবং অপরদিকে আবহাওয়া বিপর্যয়। এ দুইয়ে গত ১৫ দিনে নওগাঁর বাজারে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চিকন চালের দাম বেড়েছে প্রায় ২০০-২৫০ টাকা। আর প্রতি কেজিতে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৪-৫ টাকা। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি সচেতনদের।

চালকল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের আমদানি কমে যাওয়ায় চালের উৎপাদন কমেছে। গত কয়েক দফা বন্যার কারণে বাজারে ধানের সংকটে চালের বাজার ঊর্ধ্বমূখী। তবে কোথাও মজুদ থাকলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে।

নওগাঁ পৌর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত ১৫ দিনে কাটারি লাল জাতের চালের বর্তমান বাজার মূল্য ৪২ টাকা যা আগে ছিল ৩৮-৩৯ টাকা, সাদা ৪৬ টাকা যা আগে ছিল ৪২-৪৩ টাকা, জিরাশাইলের বর্তমান বাজার মূল্য ৫০ টাকা, আগে ছিল ৪৬-৪৭ টাকা, ব্রি আর-২৮ বর্তমানে ৪৬ টাকা, আগে ছিল ৪০-৪২ টাকা এবং পারিজা বর্তমানে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা আগে ৪৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজারে মিনিকেট/জিরাশাইল প্রতিমণ ধানের দাম ১ হাজার ২২০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কাটারি ১ হাজার ১৮০ থেকে ১২শ টাকা, পারিজা নতুন ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা এবং ৫৬/৭৬ জাতের ধান ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধানে ৫০-৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁ। প্রতি বছর ১৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপান হয় এ জেলায়। জেলার খাদ্যের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এরমধ্যে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে চিকন জাতের ধানের আবাদ করা হয়।

প্রতি বছর এ মৌসুমে বাজারে চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও গত কয়েক দফায় এবার অস্বাভাবিকভাবে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা বাজারে মোটা চালের সংকটে চিকন চালের দিকে ঝুঁকেছে ক্রেতারা। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষদের পক্ষে চাল কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

শহরের আরজি-নওগাঁর গৃহবধূ পলিরানী বলেন, আমরা গরিব মানুষ। স্বামী রিকশাচালক। পরিবারে ৫ জন সদস্য। স্বামীর উপার্জন দিয়ে নিয়মিত চাল কিনে খেতে হয়। দাম যদিও বেশি কিন্তু তারপরও কষ্ট করে কিনতে হচ্ছে। যদি বাজারটা আরেকটু কমে আসতে তাহলে আমাদের মতো সবারই সুবিধা হতো।

নওগাঁ পৌর খুচরা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সরকার বলেন, বাজারে মোটা চাল নেই। এতে করে চিকন চালের দাম বেড়েছে। প্রতি বছর এ মৌসুমে নতুন ধানের চাল বাজারে আসার আগে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে বন্যার কারণে বাজারে ধানের সংকটে চালের উৎপাদন কম হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, অতি বর্ষণের ফলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় তারা বাজারে ধান নিয়ে আসছেন না। ফলে বাজারে ধানের সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন ধানের দাম বেড়েছে অপরদিকে চালের উৎপাদন কমেছে। বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালার বাইরে যদি কোথাও অতিরিক্ত খাদ্য মজুদ রাখা হয় তাহলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে বলে মনে করছি।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, চালকল চালানোর জন্য কিছু পরিমাণ ধান মজুদ রাখা হয়। ধান না থাকলে চালকল চালানো সম্ভব না। বাজারে ধানের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ও বন্যা কমে গেলে ধান ও চালের বাজারদর কমে আসবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *