বাতাসের দূষণ খেয়ে ফেলবে গাড়ি!

তথ্য প্রযুক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট : গুডউড ফেস্টিভাল অফ স্পিডে এমন একটি গাড়ি দেখানো হয়েছে যা বাতাসের দূষণ ‘খেয়ে ফেলতে পারে’!

ব্রিটিশ ডিজাইনার টমাস হিদারউইকের নকশা করা ‘অ্যারো’ নামের এই গাড়ির উৎপাদন ২০২৩ সাল নাগাদ চীনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাতার পরিকল্পনা রয়েছে অন্তত ১০ লাখ গাড়ি তৈরি করার।

চমকপ্রদ এই নকশার গাড়ি কেবল যে দূষণ কমাবে, তা নয়। ‘জায়গার সঙ্কট’ সমাধানও এর উদ্দেশ্যে।

অবশ্য সমালোচকরা বলছেন, এটি কনসেপ্ট কারই থেকে যাবে, বাস্তব গাড়ি হয়ে উঠবে না।

লন্ডনের রুটমাস্টার বাসের নতুন সংস্করণ ডিজাইন করেছেন বটে, তবে নকশাবিদ হিদারউইক আরও বেশি পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়া এবং লন্ডনে গুগল সদর দপ্তরের মতো স্থাপত্য প্রকল্পের জন্য।

তিনি বিবিসিকে বলেন, যদিও তিনি এর আগে কখনো গাড়ির নকশা করেননি, কিন্তু সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন।

“আমি যখন বড় হয়ে উঠছি তখন গাড়ির মাধ্যমেই অনেক সাড়া জাগানো নকশা উঠে এসেছে, সেটা ১৯৮০-এর দশকে ফোর্ড সিয়েরা হোক বা ফিয়াট প্যান্ডা। গাড়িকে আশ্রয় করেই প্রধান কিছু ধারণা উঠে আসছিল।”

“যখন চীনের আইএম মোটর্স আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলো, আমরা বললাম- আমরা গাড়ির ডিজাইনার নই!  তারা বললো- সেই কারণেই আমরা তোমাদের চাই।’

এপ্রিলে সাংহাই কার শোতে প্রথম দেখানো এই গাড়িটির একটি বড় কাচের ছাদ রয়েছে। এর ভেতরটা একটি ঘরের মতো করে নকশা করা হয়েছে। ‘অ্যাডজাস্টেবল’ সিটগুলো বিছানায় রূপান্তর করা যায়। আবার মিটিং বা খাবারের জন্য একটা টেবিলও বানিয়ে ফেলা যায়।

স্টিয়ারিং হুইল লুকানো যায় গাড়ির ড্যাশবোর্ডে। আর এর বাইরের অংশটি তরঙ্গের মতো ঢেউ খেলানো নকশার। হিদারউইক বলেন, “গাড়ি নির্মাতারা বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে যেন একজন আরেকজনের ওপর পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু, একটি নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেবল খানিকটা ভিন্ন চেহারার একই জিনিস হওয়া উচিত নয়।”

তিনি বিবিসিকে বলেন, “গাড়ির উপর দিয়ে বায়ু প্রবাহের প্রতিফলন ঘটানোর পাশাপাশি সামনের গ্রিলে একটি এয়ার ফিল্টার লাগানো হবে যা “প্রতি বছর একটি টেনিস বলের সমান ক্ষুদ্রাকৃতির দূষণ কণা সংগ্রহ করবে”।

“শুনতে হয়তো এটি খুব বেশি মনে হচ্ছে না, কিন্তু আপনার ফুসফুসে একটি টেনিস বলের কথা ভাবুন, যা বাতাস পরিষ্কার করতে অবদান রাখছে, এবং কেবল চীনেই এমন ১০ লাখ ইউনিট চলছে।”

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়। এটি স্বাচালিত এবং ড্রাইভার-নিয়ন্ত্রিত উভয় মোড রাখার পরিকল্পনা আছে।

কার্ডিফ বিজনেস স্কুলের সেন্টার ফর অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চের ব্যবসা ও স্থায়িত্ব বিভাগের অধ্যাপক পিটার ওয়েলস বিবিসিকে বলেন: “আমি বুঝতে পারছি না যে এই গাড়িটি কীভাবে গাড়ির মালিকানা এবং ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত অনেক সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”

“আমাদের শহুরে দূষিত এলাকায় বাতাস পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে এই গাড়ির অবদান এতই ছোট হবে যে তা অনুপাতে ধরা সম্ভব হবে না।”

“মোট বাতাসের কতোটুকু এই গাড়ির ফিল্টার সিস্টেমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে সেটা তুলনা করলেই বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়।”

নতুন স্পেস?

গাড়ির নকশার পিছনে দ্বিতীয় বড় ধারণাটি মালিকদের ব্যবহারের বিকল্প জায়গা হিসাবে।

“কোভিড মহামারী স্থান-সঙ্কট নিয়ে এসেছে চোখের সামনে। আমাদের অনেকেই ফ্ল্যাট বা বাড়িতে বাস করছি। অথচ আরও জায়গা, বিশেষ করে অফিস বা অধ্যয়নের জন্য দরকার।”– হিদারউইক বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বে একশ’ কোটি গাড়ি আছে যা কেবল শতকরা ১০ ভাগ সময় ব্যবহৃত হয়। এই গাড়িগুলোর সুযোগ আছে “মূল্যবান রিয়েল এস্টেট” হওয়ার।

ধারণাটি তিনি প্রথম পান প্লেনের প্রথম শ্রেণির আসন থেকে, যেটি ঘুমানো, খাওয়া, বিনোদন এবং কাজের জন্য ব্যবহার করা যায়।

“অথচ গাড়িটি যখন চলছে না, এটি জায়গার অপচয় করছে মাত্র।”

৪০ হাজার পাউন্ডের এই গাড়িটিকে হিদারউইক উন্মাদসম বিলাসিতা হিসেবে দেখতে নারাজ।

আর, অধ্যাপক ওয়েলস এখনও বুঝতে নারাজ যে এই গাড়িটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে।

“গাড়ি নির্মাণ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাস আছে যে, কনসেপ্ট মডেল দিয়ে যথেষ্ট হৈচৈ বাধানোর পর দেখা যায় যখন উৎপাদনের প্রশ্ন আসে তখন অনেক তাক লাগানো প্রযুক্তির জায়গা নেয় পতানুগতিক পার্টস। কারণ, উৎপাদন খরচ কমানোর প্রশ্ন তখন সামনে আসে।”

তবে, হিদারউইক বলছেন, “এটা উৎপাদনে যাবে বলেই আমরা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি। এটা কনসেপ্ট হিসেবে তৈরি হচ্ছে না।”

তিনি অবশ্য স্বীকার করেন যে, উৎপাদনে গেলে হয়তো কিছু কিছু বিষয়ের সরলীকরণ হতে পারে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *