বানারীপাড়ায় গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন সাংসদ ও বিভাগীয় কমিশনারের

সারাবাংলা

বরিশাল ব্যুরো:
মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় আশ্রয়ণের অধিকার-শেখ হাসিনার উপহার এই সেøাগান নিয়ে সারাদেশে দরিদ্র অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ৯ লাভ ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সারা বাংলাদেশে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৬৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার গৃহনির্মাণ কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বরিশাল ২ আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলম এমপি ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা, বানারীপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি), বানারীপাড়া পৌরসভা মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল, বানারীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মহসিন উল হাসানসহ প্রমুখ। এসময় তারা বানারীপাড়া সদর এর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলতা গ্রামে মুজিব বর্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ৮০ টি গৃহনির্মাণ কাজ পরিদর্শণ করেন। পাশাপাশি বাইশারি ইউনিয়নের ১১ গৃহনির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় তারা নির্মাণ শ্রমিক গৃহনির্মাণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি উপকারভোগী ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সঙ্গেও কথা বলেন। বরিশাল জেলায় সরকারি অর্থায়নে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রথম পর্যায় বরিশাল জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ১ হাজার ৫৫৬টি পরিবারকে জমিসহ নতুন নির্মিত ঘর দিয়েছে সরকার। প্রথম দফায় দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি সেমি পাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। বরিশাল সদর ১৫৭টি, বাকেরগঞ্জ ১২০টি, মেহেন্দিগঞ্জ ২৫২টি, উজিরপুর ৭০টি, বানারীপাড়া ২০০টি, গৌরনদী ২০০টি, মুলাদী ৩০০টি, বাবুগঞ্জ ১৭০টি, হিজলা ৫১টি, আগৈলঝাড়া ৩৬টিসহ মোট ১৫৫৬ টি গৃহ উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বরিশাল জেলায় ৫৪৯টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ঘরে নির্মাণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি সেমিপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বরিশাল সদর ১০০, বাকেরগঞ্জ ৫০, বাবুগঞ্জ ১০, উজিরপুর ২৫, মুলাদী ৫০, মেহেন্দিগঞ্জ ৬৫, হিজলা ৫৯, গৌরনদী ২০, আগৈলঝাড়া ১৫, বানারীপাড়া ১৫৫টি ঘর। ২ শতাংশ খাস জমি সহ ২ কক্ষ বিশিষ্ট প্রত্যেকটি ঘরের মোট আয়তন ২৯৪ বর্গফুট। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাসস্থান নিশ্চিতকল্পে মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষ্যে জমিসহ এই ঘর দেওয়া হচ্ছে। ঘরের পাশে সবজি চাষসহ আয় বর্ধক নানা সুযোগ-সুবিধা থাকবে। বরিশাল জেলায় দ্বিতীয় দফায় অসমাপ্ত বাকি ৩৩১টি গৃহ ও কবুলিয়ত সম্পাদনের কাজ চলমান রয়েছে। যা আগামী আগস্ট মাসের সমাপ্ত করা হবে। সরকারি অর্থায়নে বরিশাল বিভাগে ১ম পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুর্নবাসনের নিমিত্ত বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় মোট ৬০৮৮ টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। (বরিশাল ১৫৫৬টি, পটুয়াখালী-২১৩১ টি, ভোলা ৫২০টি, পিরোজপুর ১১৭৫টি, বরগুনা ২৩২টি, ঝালকাঠী ৪৭৪টি)। ২য় পর্যায়ে বরিশাল বিভাগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুর্নবাসনের নিমিত্ত বরিশাল বিভাগে ০৬টি জেলায় মোট ৭১২৭টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয় (বরিশাল ৫৪৯টি, পটুয়াখালী ২৭৮১ টি, ভোলা ৩৭১টি, পিরোজপুর ২০০৪টি, বরগুনা ১০০০টি, ঝালকাঠী ৪৭২টি) আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তার বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার উদয়কাঠী, সৈয়দকাঠি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ত্রাণ হিসেবে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *