বাবুবাজার সেতুতে গাড়ির স্ট্যান্ড

সারাবাংলা

তীব্র যানজট ॥ ভোগান্তিতে যাত্রী
রানা আহমেদ, কেরানীগঞ্জ থেকে
বুড়িগঙ্গা নদীর উপর দ্বিতীয় সেতু বাবুবাজার সেতু। ঢাকা থেকে মাওয়া, কেরানীগঞ্জগামী অন্যতম রূপ বাবুবাজার সেতু। তবে সেতুতে প্রবেশ করতেই পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। সকাল থেকে রাত অবধি লেগে থাকে যানজট। শুধু সেতুতে চলাচলকারীরাই নন, ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও। সেতুতে রাজধানীর নয়াবাজার থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে বুড়িগঙ্গার ওপার কদমতলীতে। এতে লেগে থাকা যানজট নিমেষেই ছড়িয়ে পড়ে দুই পাড়ের এলাকায়। ফলে দুই পাড়ের এলাকার বাসিন্দাদের পড়তে সীমাহীন ভোগান্তিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর উপরে বাস, লেগুনা, সিএনজি ও ভ্যান অবৈধ স্ট্যান্ড করে যাত্রী উঠা-নামা করছে। পুরো সেতু জুড়ে প্রতিদিনই গাড়িতে যাত্রী উঠানোর জন্য বাস, সিএনজি ও লেগুনা দাঁড়িয়ে থাকে। সেতুর উপরে উঠতে দুইপাশে দুইটি করে মাঝামাঝি মোট চারটি সিঁড়ি রয়েছে। সেখানে যাত্রীরা বাবুবাজার সেতুর উপরে উঠে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। সেতুর উপরে যাত্রীদের লম্বা লাইনের জন্য যানজটের ভোগান্তি আরও যায় বেড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সিএনজি চালকরা বাবুবাজার সেতু ও এর আশপাশের এলাকার যানজটের জন্য দায়ী করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ সদস্যদের। সিএনজি, লেগুনা ও বাস চালকদের কাছ থেকে মাসিক হারে তারা টাকা নিয়ে এই অবৈধ স্ট্যান্ড চালান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ সেতুর উপর দিয়ে দিনে দুইবার যাতায়াত করেন মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী মো. লিটন। তিনি জানান, প্রতিদিন সেতুর উপর উঠেই পড়তে হয় যানজটে। বাস, লেগুনা ও সিএনজিগুলো সারি ধরে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রী উঠানোর জন্য ফলে পেছনের গাড়িগুলো সামনে আসতে না পাড়ায় সৃষ্টি হয় যানজট। এতে সেতুর উপর বসে থাকতে হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তবে মধ্যে মধ্যে পুলিশ থাকলেও তাদের দেখা যায় নিরব ভূমিকায় যেনো তারা কিছুই দেখছে না, বরং বাস, লেগুনা ও সিএনজিগুলোকে পাহারা দিচ্ছে।
নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন পথচারী জানান, প্রতিদিনই জীবিকার তাগিদে আমাদের কেরানীগঞ্জ থেকে কর্মস্থলে যতে হয় এই সেতুর উপর দিয়ে, আবার কাজ শেষে বাসায় ফিরতে হয়। তবে বেশীরভাগ সময় আমরা হেঁটে পার হই। কারণ যানজটে বসে থাকলে আমাদের কর্মস্থলে দেরি হয়ে যায়। এই যানজটের কারণে আমরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছি। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে যানজট লাগবে বলে সেতুতে টোল নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু নেতা ও পুলিশ সদস্যরা টাকা খেয়ে অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে যানজটে ভোগাচ্ছেন মানুষকে। আর অন্যদিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই সেতুর একপাশে হকাররা বিক্রি করছে শরবত, কাপড়, মানিব্যাগ, আচারসহ নানা জিনিসপত্র। ভ্রাম্যমাণ এসব দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ক্রেতারা, ফলে তৈরি হচ্ছে জটলা। অন্যদিকে এসব হকার আর সিএনজি চালকের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। এতে চাঁদাবাজদের পকেটে টাকা ঢুকলেও বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *