বালিয়াকান্দিতে মসজিদের মিম্বর ও কাপের্টে আগুন

সারাবাংলা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুরে রাতের অন্ধকারে একটি মসজিদের দরজা ভেঙ্গে মিম্বার ও কার্পেটে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্য রাতের পর কোন এক সময় ওই ইউনিয়নের জিয়েলগাড়ী এলাকার বড় জামে মসজিদে দূর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায় বলে জানাগেছে। এছাড়া একই রাতে পাশের কয়েকটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এদিকে উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বেরুলী সাহেবপাড়া গ্রামে সার্বজনীন শ্মশান ও কালি মন্দিরের কালি প্রতিমার পড়িধানকৃত কাপড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের ধারনা সন্ধ্যা প্রদীপ থেকে প্রতিমার কাপড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
নাম প্রকাশে অনিইচ্চুক মসজিদ সংলগ্ন এক ব্যাক্তি জানান, মজজিদের দ্বায়িত্বরত ইমাম, মোয়াজ্জিন, মসজিদ কমিটির সভাপতি সহ অনেকে চরমেনাইয়ের ওরশ শরীফে গিয়েছে। সে সুযোগে রাতের অন্ধকারে কে বা করা মসজিদের ভেতরের মিম্বারে তালের পাতা দিয়ে আগুন দেয়। আগুনে মিম্বার ও কার্পেটের কিছু অংশ পুড়ে যায়। এছাড়া পাশে থাকায় কয়েকটি খড়ের গাদায়ও ওই রাতে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। মসজিদের পাশে থাকা একটি মাদরাসার ছাত্ররা ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে আগুন দেখে এবং চিৎকার চেঁচামেচি করে। পড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনা না ঘটলেও মুসলমান সম্প্রদায়ের পবিত্রস্থান মসজিদে এমন ঘটনা চিন্তার বিষয়। দ্রুত এসব দূর্বৃত্তদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টন্তমূলক শ্বাস্তির দাবী জানান তিনি।
নবাবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাদশা আলমগীর জানান, তাদের ইউনিয়নে জাতিগত কোন ভেদাভেদ নাই। সবাই সবার সঙ্গে আন্তরিরকতার সঙ্গে চলাফেরা করে। কোন একটি কুচক্রীমহল মসজিদ, মন্দিরে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। আর তার ধারনা একটি চক্রই পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া এসব দূর্বৃত্তদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় এনে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শ্বাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল হাসান আলী জানান, মন্দির ও মসজিদের দুরত্ব ৫শ ফুটের মত হবে। কিন্তু এলাকায় হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই হিসাবে থাকে, কারও সঙ্গে কোন সমস্যা নাই। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে একটি মহল পরিকল্পিত এ ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে ধারনা করছেন। তবে মন্দিরের আগুন সন্ধ্যা প্রদীপ থেকে লেগেছে বলে ধারনা তার। এসব ঘটনার সঙ্গে জারাই জরিত থাক না কেন, সবাইকে চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনা জরুরী। এছাড়া এই চক্রকে খুঁজে বের করতে তিনিও তৎপরতা শুরু করেছেন।
বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ফায়ার ফাইটার সোহেল রানা জানান, রাতে নবাবপুরের জিয়েলজাড়িতে কয়েকটি খড়ের গাদায় অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি। তাছাড়া মসজিদে কোন অগ্নিকান্ডের বিষয় তারা জানেন না। বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারিকুজ্জামান জানান, নবাবপুরের জিয়েলগাড়ীর একটি মসজিদের মিম্বারে আগুন দেওয়া হয়েছে, এমন খবরে জেলা পুলিশে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এ বিষয় তদন্ত শুরু করেছেন। ঘটনার সঙ্গে যারা জরিত সবাইকে চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনবেন বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *