বাসাইলে প্রতিমা গড়তে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী ছাপ্পান্ন মণ্ডপে প্রস্তুতি

সারাবাংলা

মিলন ইসলাম, বাসাইল থেকে
হিন্দু ধর্মীয় সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাসাইলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। উপজেলায় ৫৬ টি পূজা মণ্ডপে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন মন্ডপে গিয়ে দেখা যায় শিল্পীরা তাদের মনের মাধুরি মিশিয়ে নির্মাণ করে যাচ্ছে প্রতিমা।
সরজমিনে মৃৎশিল্পিরা জানান, দেবী দূর্গা আসছেন অন্ধকার আচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে। ঢাক, ঢোল, শংখ ধ্বনী আর উলুধ্বনী দিয়ে দেবী দূর্গাকে বরন করে নেওয়ার অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভক্তরা। নিজেদের মনের মতো করে প্রতিমার নকশায় নিজেকে সেরা শিল্পী হিসেবে তুলে ধরতে দিন রাত পরিশ্রম করে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মরত মৃৎ শিল্পীগন। প্রতি বছরের মতো এবারেও ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী ১১ অক্টোবর থেকে শারদীয় দূর্গোৎসবের আয়োজন চলবে।
উপজেলার রাশড়া গ্রামের মৃৎশিল্পী ভারত পাল জানান, আমি দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত প্রতিমা তৈরীর কাজ করে আসছি, আমার বাপ, দাদারাও এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তাদের উত্তরসুরী হিসেবে আমিও এই কাজ করছি। প্রতি মন্ডপের প্রতিমা তৈরী বাবদ ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মুল্য গ্রহন করেন তিনি।
বাসাইল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, এবছর উপজেলার ৫৬ টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভায় ১৫ টি, সদর ইউনিয়নে ১০ টি, কাউলজানী ইউনিয়নে ৩ টি, কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে ৭ টি, ফুলকি ইউনিয়নে ৬ টি, হাবলা ইউনিয়নে ৮ টি এবং কাশিল ইউনিয়নের ৭ টি মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা হবে। এ সকল মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সুনীল রায় স্বপন বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার কারণে আমরা বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায় করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু কমায় পূজার আয়োজন ও প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার প্রায় ৫৬ টি মন্ডপে পূজা উদযাপন করা হবে। শারদীয় দুর্গা উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উৎযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও বাসাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনজুর হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বসা হবে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে বিভিন্ন ধরনের দিক-নিদের্শনামূলক আলোচনা সভা করা হবে। শারদীয় উৎসবে উপজেলা প্রশাসন সব সময় মনিটরিং করবে। পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী নিয়োজিত থাকবে।যাতে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *