বাস্তবে রূপ নিচ্ছে লেবুখালী সেতু মাত্র ৫ ঘণ্টায় কুয়াকাটা

সারাবাংলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন লেবুখালী সেতু। বিশেষ করে পটুয়াখালীর মানুষের কাছে এ সেতুর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এবার বাস্তবে রূপ নিচ্ছে সেই লেবুখালী সেতু। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের এক হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সেতুটি চালু হলে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা যেতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৫-৬ ঘণ্টা। চার লেনের এ সেতুর মূল অংশের ক্লোজিং সেগমেন্ট ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে জোড়া লেগেছে পায়রা নদীর দুই তীর। চলতি মাসেই মূল সেতু ও সংযোগ সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশি¬ষ্টরা। জানা যায়, কুয়েত সরকারের অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান চাইনিজ কোম্পানি সেতুটি নির্মাণ করছে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও করোনা সংক্রমণের কারণে তা দুই বছর পিছিয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করবে প্রতিষ্ঠানটি। সরেজমিনে দেখা যায়, চার লেনের লেবুখালী সেতুর দুই প্রান্তে এক হাজার ২৬৮ মিটার সংযোগ সড়ক এবং টোলপ¬াজা নির্মিত হয়েছে। চারটি স্প্যানের ওপর নির্মিত হয়েছে পায়রা নদীর মূল অংশের বক্স গার্ডার। এরই মধ্যে সেতু পারাপারের টোল নির্ধারণ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করেছে। জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ লেবুখালী সেতু উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা নদীর উপর লেবুখালী সেতু নির্মাণের মধ্যে দিয়ে উপকূলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। সেতুটি চালু হলে বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর বলেন, সেতুটির কাজ ৯৭ ভাগ শেষ হয়েছে। এটি নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি এ সেতু সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো একধাপ এগিয়ে নেবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *