বাড়িতে ডেকে বন্ধুদের নিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণ

সারাবাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রেমিকাকে ডেকে বন্ধুদের নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সেই কিশোর প্রেমিক এবাদুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে চাঁদা চাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

১২ অক্টোবর কক্সবাজার উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দেবেঙ্গা পাড়ার ওই স্কুলছাত্রীর একই এলাকার গুলগুলিয়া পাড়ার মো. আলী প্রকাশ নবাব মিস্ত্রির ছেলে এবাদুল্লাহর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গেলো ১২ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে প্রেমিক এবাদুল্লাহ ফোন করে ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে। সে বের হয়ে দেখে প্রেমিকের সঙ্গে আরও তার দুই বন্ধুও রয়েছে।

তারা হলো গুলগুলিয়া পাড়ার মো. আলীর ছেলে খায়রুল আমিন ও একই এলাকার আলী আহামদের ছেলে নূরুল হাকিম। একপর্যায়ে জোর করে প্রেমিকসহ তিনজনই ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে এবং তার ভিডিও ধারণ করে।

ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর পরিবারের বরাত দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য এরফান উল্লাহ জানান, ঘটনার পরে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর পরিবারের লোকজনকে ফোন করে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি জানায় ধর্ষকরা। ভিডিও ধারণের কথা জানিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে ধর্ষকরা। না দিলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হুমকি দেয়।

কিন্তু স্থানীয় মেম্বার তাদের জন্য জন্য ফাঁদ পাতে। এর অংশ চাঁদা টাকার জন্য ১৩ অক্টোবর রাতে স্থানীয় বিলে আসে প্রেমিক এবাদুল্লাহ ও খায়রুল আমিন এবং জাহাঙ্গীর নামের আরও একজন। ধর্ষণে জড়িত নূরুল হাকিম আসেনি। একপর্যায়ে মেম্বারসহ স্থানীয় লোকজন ধানক্ষেতে ওৎ পেতে থাকে এবং চাঁদার টাকা নিতে আসলে এবাদুল্লাহ ও খায়রুল আমিনকে ধরে ফেলে। কিন্তু স্থানীয় আকতার কামালের ছেলে আশরাফুল ইসলাম রাসেল প্রভাব কাটিয়ে খায়রুল আমিনকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে পুলিশ গিয়ে আটক এবাদুল্লাহকে থানায় নিয়ে আসে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হাই জানান, এই ঘটনায় ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার প্রেমিক এবাদুল্লাহ ধর্ষণের কথা স্বীকার করে মহেশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *