বিজয়নগরে সোনালি আঁশে স্বাবলম্বী ৩৫০ পরিবার

সারাবাংলা

মো. হাবিব, বিজয়নগর থেকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে সোনালী আঁশ পাটের। উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকরা বেশ খুশি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর বিজয়নগর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। পাশাপাশি অনুকূল আবহাওয়া থাকায় পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। গত কয়েক বছর যাবত পাট চাষে তুলনামূলক ভাবে লাভবান হওয়ায় পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।এবছরও ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছে কৃষকরা।
বিজয়নগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,উপজেলায় মোট ৪১ হেক্টর জমিতে এবছর দুই জাতের পাট চাষ করেছে কৃষকরা।যার মধ্যে কেনআপ জাতের ৩০ হেক্টর ও তুষা জাতের ১১ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়।যার দ্বারা উপজেলার প্রায় ৩৫০ কৃষক পরিবার ৩২৮০ মন পাট চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার মির্জাপুর এলাকার পান্তিক চাষী রঞ্জিত দাস জানান, ন্যায্য দামে পাট বিক্রি করে সংসারের চাকা সচল রাখার পাশাপাশি ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচ যোগাবেন তিনি। এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে পাটচাষ করেছেন ।
উপজেলার পাট চাষিরা জানান, এক বিঘা জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক ক্রয়, পরিচর্যা, পঁচানি দিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা নেয়ার পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পাট ছাড়ানো ও রোদে শুকিয়ে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
উপজেলার আড়িয়াল গ্রামের রহমত আলী জানান, এ বছর পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। দাম ভালো পেলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না।
বিজয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাব্বির আহাম্মদে জানান, এ উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের উপযোগী। পাট পচনের (জাগ) ক্ষেত্রেও রয়েছে অনেক ডোবা, নালা, খাল, বিল ও জলাশয়। এ বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় পাট পচনের ক্ষেত্রে জলের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। এছাড়া ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি কৃষকরা দামও ভালো পাবেন বলে আশা করছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *