বিদায় নয় যেন স্বপ্নময় প্রস্থান

সারাবাংলা

মাহমুদুল হাসান রিমন, সখীপুর থেকে:
পুলিশ কনস্টেবল পদে ৩০ বছর ১ মাস চাকরি করেছেন জাহিদ হাসান। চাকরি জীবনে কোনো পদোন্নতি পাননি। গত শনিবার তিনি অবসরে গেলেন। তার চাকরি জীবনের শেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করতে বিশেষ আয়োজন করেছিল সখীপুর থানা পুলিশ। সংবর্ধনা শেষে ফুল দিয়ে সাজানো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি দিয়ে তাকে (জাহিদ হাসান) সম্মানের সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া হলো গ্রামের বাড়িতে। বিদায় বেলা থানার ওসিসহ সহকর্মী পুলিশ সদস্যরা আনন্দ অশ্রুতে বিদায় দিলেন তাদের প্রিয় সহকর্মী পুলিশ সদস্য জাহিদ হাসানকে।
আজ দুপুরবেলা থানা চত্বরে তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর চাকরি জীবনের শেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ফুল দিয়ে সজ্জিত করা থানার ওসির সরকারি গাড়িতে করে শেষ কর্মস্থল সখীপুর থেকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দক্ষিণ বাসাইল গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয় তাঁকে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, ফুল ও পুরস্কার সামগ্রী। বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে সাইদুল হক ভুইঁয়া ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছাইফুল ইসলাম।
সর্বশেষ প্রায় বছর খানেক সখীপুর থানায় কনস্টেবল পদে দায়িত্ব পালন করেন জাহিদ হাসান। ৩১ বছরের চাকরি জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে আজ থেকে তার অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শুরু হয়। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে সাইদুল হক ভুঁইয়া বলেন, সখীপুর থানায় এই প্রথম এ ধরনের ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠান করা হলো। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশ মোতাবেক আমরা বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করি ও জাহিদকে সম্মানের সঙ্গে আমার সরকারি গাড়ি ফুল দিয়ে সাজিয়ে ওই গাড়িতে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। তাঁর গ্রামের লোকজন তাঁকে দেখে খুশি হবে। তাঁর এলাকায় সম্মান বাড়বে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা সম্মানবোধ করবে। এ ধরনের চিন্তা থেকেই এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
বিদায়ী পুলিশ সদস্য জাহিদ হাসান মুঠোফোনে বলেন, ফুলে সজ্জিত ওসি স্যারের গাড়িটি যখন আমার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে তখন অনেক লোকজন ছুটে আসে। পুলিশের গাড়ি দেখে গ্রামবাসী প্রথমে চমকে যায় এরপর আমাকে সম্মান করার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরে খুবই খুশি হয়। চাকরি জীবন শেষে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়া নিঃসন্দেহে অনেক আনন্দের। এটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *