বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতে দক্ষ জনশক্তি ও উন্নত প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ : নসরুল হামিদ

জাতীয়

অনলাইন ডেস্ক : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘আমরা যদি প্রযুক্তি বান্ধব দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো না। দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি এবং উন্নত প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’র ‘এনার্জি সিকিউরিটি অব বাংলাদেশ : ইস্যুজ এন্ড অপশনস্’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
আইইবি’র যন্ত্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তি বান্ধব করে গড়ে তুলতে না পারলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।
আইইবি’র যন্ত্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনার সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী আবু সাঈদ হিরো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, আইইবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর এবং আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা যদি প্রযুক্তি বান্ধব দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো না। বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে আমাদের আরও টেকনোলজি নির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ দরকার।’
জ্বালানি ধীরে ধীরে আমদানি নির্ভর হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে গ্যাস তা এক সময় শেষ হয়ে যাবে। চাহিদা কিন্তু থাকবে বরং বাড়বে। আমরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং গ্যাস ক্ষেত্রগুলো নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করছি। ঢাকা শহরে গ্যাস ব্যবস্থাপনায় টোটাল অটোমেশন করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’কে বিভিন্ন সেক্টর ভিত্তিক মাস্টার প্ল্যান তৈরী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামোগত মাস্টারপ্লান বাংলাদেশে নেই, তবে সেটা খুব দরকার। বড় অবকাঠামো যেমন, পদ্মাসেতু, বড় বড় রাস্তা নির্মাণ করার সাথে সাথে এনার্জির চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে। কোন জায়গায় কোন ধরণের ইন্ডাষ্ট্রি হবে সে অনুযায়ি আমাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা তৈরী করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, আইইবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, ১৯৭৫ সালের ৯ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি জাতীয় স্বার্থে দেশের বৃহৎ পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র তিতাস, বাখরাবাদ, রশীদপুর, কৈলাশটিলা ও হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী বহুজাতিক তেল কোম্পানী শেল ওয়েল ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্য কিনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সভ্যতার অস্তিত্ব নির্ভর করে জ্বালানি শক্তির ওপর। দেশের জন্য বর্তমানে জ্বালানি একটি অপরিহার্য সম্পদ। শুধু দেশে নয়, জ্বালানি ব্যতীত পৃথিবীর গতিশীলতা স্তব্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, সভ্যতার ক্রমবিকাশমান ধারার প্রতিটি ক্ষেত্রে জ্বালানির প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সকল কর্মকান্ড জ্বালানি নির্ভর। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই আমাদের সকলকে পরিমিত জ¦ালানি ব্যবহার করতে হবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অধিক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, ভিশন, মিশন থাকবে কিন্তু প্ল্যান করতে হবে স্বল্প সময়ের জন্য। শীতের সময় আমাদের দেশে বিদ্যুৎ কম লাগে, কিন্তু গরমের সময় বিদ্যুৎ বেশি লাগে। তাই গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। তবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে যদি মানব সম্পদ উন্নয়ন না করা যায়। আর মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে আলাদা একটি মন্ত্রণালয় দরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু), পিইঞ্জ.। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ম. তামিম।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট(একা. ও আন্ত) ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন এবং জিটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আতিকুজ্জামান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *