বিধিনিষেধ মানছে না রংপুরবাসী

সারাবাংলা

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রংপুর ব্যুরো:
রংপুরে করোনা মোকাবেলায় সারাদেশের ন্যায় ৩ দিনের লকডাউন চলছে। এটাকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর লকডাউনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। তবে নগর ঘুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনেকে দোকানের এক ঝাপ খুলে ব্যবসা করতে দেখা গেছে। অপরদিকে মাস্ক ব্যবহার বাড়লেও শারীরিক দূরত্বের মেনে চলার প্রবণতা কম লক্ষ্য করা গেছে। নগরীতে পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি থ্রি-হুইলার, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মিনিবাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। খোলা রয়েছে শপিংমল, মার্কেট ও ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। নগরীর জাহাজ কোম্পানির মোড়, মেডিকেল মোড়, সাতমাথা, শাপলা চত্বর, টার্মিনাল মোড়, মর্ডান মোড়, সিসিও বাজার মোড়, মেডিকেল মোড়, মাহিগঞ্জ চৌরাস্তার মোড় এলাকায় দেখা যায়, যারা বাইরে বের হচ্ছেন, তাদের একটি বড় অংশ মাস্ক সঙ্গে রাখছেন। নগরীর বাইরে বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুর উপজেলার হাটবাজারগুলোতে ব্যবসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীরা দোকানের একাংশ খুলে বেচাকেনা করছেন। অনেকেই আবার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছেন। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও গণপরিবহন নেই সড়ক, মহাসড়কগুলোতে। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে লোকের সমাগম ছিল আগের মত। তবে তাদের মধ্যে শারীরিক দূরত্বের মেনে চলার প্রবণতা ছিল কম। পাড়া মহল্লার মোড়ে মোড়ে বয়স্ক মানুষদেরও আড্ডা দিতে দেখা গেছে। কাঁচা বাজার খোলা থাকায় সেখানে ভিড় বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। নগরীর জিএল রায় রোড, সেন্টাল রোড, হাড়িপট্টি, স্টেশন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের দোকানের এক ঝাপ অথবা একটি সাটার খুলে বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। ক্রেতার সমাগম ছিল বেশ। এদিকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েটি পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট থাকলেও রিকশা-অটো চলাচল বেড়েছে আগের থেকে বেশি। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল না করলেও এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় মানুষ যাতায়াত করছেন অটোতে করে। অফিস আদালতে উপস্থিতি ছিল কম।
এ বিষয়ে মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, সব ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি নির্দেশ পালন করা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। তবে সড়কের ধারে কিছুু ব্যবসায়ী নির্দেশনা উপেক্ষা করে দোকানপাট খোলা রেখেছেন। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) উজ্জ্বল কুমার রায় জানান, সরকারের ঘোষিত বিধিনিষেধ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে ট্রাফিক কাজ করছে। বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহলের পাশাপাশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, লকডাউন কার্যকরে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। লকডাউন মানার জন্য প্রতিদিনই সচেতনতামূলক কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *