বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ তিনে ঢাকা

লিড ১

ডেস্ক রিপোর্ট : বায়ু দূষণ বাংলাদেশের একটি অন্যতম শীর্ষ চ্যালেঞ্জ। দূষিত শহরের তালিকায় তাই এক ধাপ নিচে নামলেও স্থান শীর্ষ তিনে রয়েছে ঢাকার নাম।

আজ (শনিবার) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর বাতাসের গুণমান সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই) ১৮২ রেকর্ড করা হয়েছে। যা “অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে বিবেচিত।

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের লাহোর এবং ভারতের দিল্লি যথাক্রমে ৪০৭ এবং ৩১১ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর  সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঢাকার বাতাসের গুণমান সূচক (একিউআই) ১৫৯ রেকর্ড করা হয়েছিল। এক মাস হওয়ার আগেই তা বেড়ে ১৮২-তে এসেছে।

সাধারণত ১০০ এবং ২০০-এর মধ্যে একিউআই “সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর” বলে বিবেচিত হয়। একইভাবে ২০১ এবং ৩০০-এর মধ্যে “খারাপ” এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য “বিপজ্জনক” হিসেবে বিবেচিত হয়।

দৈনিক বায়ুর গুণমান নির্ণয়ের জন্য একিউআই একটি সূচক। সরকারি সংস্থাগুলো একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং এ জন্য স্বাস্থ্যের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বা তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে কি-না তা জানতে এই সূচকটি ব্যবহার করে থাকে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক একিউআই পাঁচটি দূষণকারী মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- কণা পদার্থ (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), কার্বন মনোঅক্সাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং ওজোন।

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ সমস্যায় জর্জরিত। সাধারণত, জুনের মাঝামাঝিতে বর্ষাকাল শুরু হলে ঢাকার বাতাস সতেজ হতে শুরু করে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বায়ু নির্মল থাকে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হচ্ছে, ইট ভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণাধীন স্থাপনার ধুলো।

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে শহরের বাতাসের গুণমানের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। নির্মাণাধীন স্থাপনা, ভাঙাচোরা রাস্তা, ইট ভাটা এবং অন্যান্য উৎস থেকে দূষিত কণা প্রচুর পরিমাণে বাতাসে মিশে যাওয়ার কারণে এমন হচ্ছে।

এদিকে, দূষিত বাতাসে দীর্ঘদিন শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের ফলে হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে বিভিন্ন গবেষণায় স্বীকৃত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ুদূষণের প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক সাত মিলিয়ন মানুষ মারা যাচ্ছে। যা মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে হচ্ছে।

বায়ুদূষণ বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। এবার রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ভয়ানক “ধুলো দূষণ” নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্তৃপক্ষকে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কেননা প্রতি বছর শীতকালে, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও বায়ুদূষণের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। যা নগরবাসীর মারাত্মক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করছে।

ধুলো দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য শহরের রাস্তাগুলোয় নিয়মিত পানি ছিটিয়ে দেওয়া এবং শহরে অযোগ্য মোটরযানের চলাচল বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

একই সঙ্গে, সমস্ত নির্মাণাধীন সাইটগুলো আচ্ছাদিত করে রাখার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেন তারা।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস প্রফেসর আইনুন নিশাত বলেন, নির্মাণাধীন স্থাপনার ধূলিকণা, আর্থ ফাইলিং এবং রাস্তা, ওভারলোডেড মোটরযানের কালো ধোঁয়া এবং ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ইট ভাটাগুলো শীতকালে শহরের বাতাসের মান খারাপ করার জন্য অনেকাংশেই দায়ী।

“সুতরাং, সমস্ত ইট ভাটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আধুনিকীকরণ করা উচিত,” তিনি যোগ করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *