বিশ্বে করোনায় কমছে সংক্রমণ ও প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক লিড ১

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও কমেছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যায় কমেছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাড়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নেমে এসেছে সাড়ে ৩ লাখে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে দৈনিক মৃত্যুতে সবার ওপরে রয়েছে রাশিয়া। এরপরই রয়েছে মেক্সিকোর নাম। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ কোটি ৯২ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৭ লাখ ৫ হাজার।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ হাজার ৭১৮ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ১ হাজারের বেশি। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৭ লাখ ৫ হাজার ৩৩ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩২৭ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ৬৬ হাজারের বেশি। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৪৯ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৩১ জন এবং মারা গেছেন ৩১১ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ২৯ লাখ ৯০৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ জন মারা গেছেন।

দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৭৯৩ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২০ হাজার ১৭৪ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৮ জনের।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর দৈনিক প্রাণহানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এই দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩৯ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৪৫৮ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৭৮৬ জনের।

এদিকে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯৬ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৮০৯ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৯ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ জন।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মেক্সিকোতে মারা গেছেন ৭৬৫ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১১ হাজার ৭১১ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬৯৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩০৩ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪৫ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৩৪ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৬৮ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৯১ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৭৫ জন। করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৪ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮২ জন মারা গেছেন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৩ জন, যুক্তরাজ্যে ৭৪ লাখ ২৯ হাজার ৭৪৬ জন, ইতালিতে ৪৬ লাখ ৩৬ হাজার ১১১ জন, তুরস্কে ৬৮ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৯ জন, স্পেনে ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৬ জন এবং জার্মানিতে ৪১ লাখ ৫১ হাজার ৮১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে এক লাখ ১৬ হাজার ৩০ জন, যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২০৩ জন, ইতালিতে এক লাখ ৩০ হাজার ৩১০ জন, তুরস্কে ৬১ হাজার ৫৭৪ জন, স্পেনে ৮৫ হাজার ৭৮৩ জন এবং জার্মানিতে ৯৩ হাজার ৫৮৫ জন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *