বিসিবি’র মিথ্যাচার নিয়ে যা বললেন মাশরাফি

খেলাধুলা

ডেস্ক রিপোর্ট: সাকিব আল হাসানের এক লাইভ ইন্টারভিউয়ের পর থেকে রীতিমতো তোলপাড় দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। তার সঙ্গে যোগ দেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বেসরকারি টিভি চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে মাশরাফি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ইস্যুতে নানা কথা বলেন। তিনি জানান, গত ২০ বছরে একটা ফিটনেস টেস্টেও ফেল করেননি। অথচ এর আগে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, ফিটনেসের কথা চিন্তা করলে ওর (মাশরাফি) বাদ পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, আমার মনে হয়।

গত মার্চে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব ছেড়েছেন মাশরাফি। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম অধিনায়কের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও থমকে আছে সেই থেকে।

নেতৃত্ব ছাড়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, দলের সাধারণ একজন হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে চান আরো কিছু সময়। গত দুই সিরিজে মাশরাফির সেই ইচ্ছা অপূর্ণই থেকেছে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দলে রাখা হয়নি তাকে।

এদিকে, তাকে রেখেই নিউজিল্যান্ডের সফরে বাংলাদেশ দল। মাশরাফির দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে ফিটনেসকে কারণ বলা হয়েছিল। কিন্তু অনেকদিন চুপ থাকার পর মাশরাফি বলছেন ভিন্ন কথা।

দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে এতোদিন কিছু না বললেও এবার মাশরাফি বলেন, পরিসংখ্যান বের করে দেখুন আমার কোনো ফিটনেস পরীক্ষায় ফেল আছে কি না। ২০০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোনো ফিটনেস পরীক্ষায় আমি ফেল করিনি। বলতে শুনেছি, যে মাশরাফির ফিটনেস হয়তো ভালো নেই। আমি তখন অবাক হয়েছি। কারণ বাইরের একজন দর্শক বললে হয়তো মানতাম, কিন্তু বোর্ডের কেউ যখন বলছে তখন অবাক লাগে। ওনারা কী আসলেই তথ্য জানে? মানে আসলেই কী অফিস করে? গত বিশ বছরে আমার একটা ফিটনেস টেস্টেও ফেল নেই।’

মাশরাফি বলেন, ক্রিকেট খেলা শুরুর পর থেকেই আমি বিশ্বাস করি, যখন কেউ আমাকে আক্রমণ করবে, তখন যে দিকটা ছাড় দেয়া হয় সেদিকেই আক্রমণ করবে। তাই আমার যত ইনজুরি হোক, যত যাই হোক, ফিটনেস ইস্যুতে হেলাফেলা করিনি। বোর্ডের কাছে তো সব তথ্য আছে, বের করে দেখতে বলুন। যদি তথ্য না থাকে তাহলে তো এটা আরো বড় অপেশাদারিত্ব।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে বলা হয়েছিল, বাদ দেওয়ার আগে মাশরাফির সঙ্গে আলোচনা করেছেন নির্বাচকরা। মাশরাফি বললেন, এটা মিথ্যাচার। তার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি, ‘না, এ বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়নি। নান্নু (মিনহাজুল আবেদীন) ভাই আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু এই বিষয়ে কথা হয়নি। আমি অন্তত কিছুটা সত্য কথা আশা করেছিলাম।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *