বিয়ের ৩৮ দিনের মাথায় তালাক

সারাবাংলা

জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর থেকে : বিয়ের ৩৮ দিনের মাথায় তালাক করিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর শহরের মেধ্যাপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে মোসাম্মৎ রাবেয়া আক্তার সদর উপজেলার ৯নং ইউনিয়নের খানপুর খুদিরহাট গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে সবুজকে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শহরের শিশু পার্ক থেকে শশ্মানঘাটে নিয়ে গিয়ে বেধম প্রহারের পর গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিয়ে করেন। বিয়ের ১ মাস ৮ দিনের মাথায় সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের কু-পরামর্শে রাবেয়া আক্তার সবুজকে তালাক দিয়ে দেনমোহর বাবদ নগদ সাড়ে ৪ লাখ হাতিয়ে নেন। সেখানে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

এ ব্যাপারে সবুজ বলেন, আমরা আগে বুঝতে পারিনি যে, মেয়ে পক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে বিচারের নামে আমাদের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেবেন। তবুও আমরা অনেকবার তাকে বলেছিলাম আমরা আইনের মাধ্যমে এই মেয়েকে তালাক দেবো। এরপর সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ আমাদের বলেন, আপনারা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আমার কাছে জমানত দেন, তা ছাড়া বিচারে বসবো না। আমরা সরল বিশ্বাসে তার কাছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জামানত দেই। এরপর ২৭ জানুয়ারি তিনি বিচারের নামে আমাদের বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসলে ২৮ জানুয়ারি আমাদের অনুপস্থিতিতেই সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন তার নিজ ক্ষমতা বলে তালাক নামায় মেয়ের স্বাক্ষরসহ কাগজ আমার বাসায় পাঠিয়ে দেন। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা যদি বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এই মিমাংসা করতাম, তাহলে আমাদের এত টাকা লাগতো না। কারণ চেয়ারম্যান জিয়া সব সময় ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে এলাকার সব বিচার ও মিমাংসা করে থাকেন। এ ব্যাপারে আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমি একবার এই বিচার করেছি, যাতে ছেলে-মেয়ে কোনো পক্ষরই আর্থিক ক্ষতি না হয়। কিন্তু সেখানে সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ কিভাবে কোন ক্ষমতার বলে পুনরায় সেই বিচার করে মেয়ে পক্ষের কাছে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে বিচার করেন তা আমার জানা নেই। এমনকি পরবর্তী বিচারের সময় আমাকে জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি আমার অজান্তে ছিল। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। ফ্রি হয়ে কথা বলবো। এরপর তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *