বুক বিল্ডিংয়ে কার লাভ?

অর্থ-বাণিজ্য

অর্থনীতি ডেস্ক প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসা ভালো কোম্পানির প্রিমিয়াম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে চালু হয় বুক বিল্ডিং পদ্ধতি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এই পদ্ধতি চালু হলেও এটি এখন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। কয়েক দফা সংশোধন হলেও বুক বিল্ডিং পদ্ধতি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধা বয়ে আনতে পারছে না, উল্টো ঠকছেন তারা।

অভিযোগ উঠেছে, পুঁজিবাজার থেকে অসাধু চক্রের অর্থ লোপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বুক বিল্ডিং। কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজারের যোগসাজশে এক শ্রেণির যোগ্য বিনিয়োগকারী বুক বিল্ডিং পদ্ধতির বিডিংয়ে অংশ নিয়ে শেয়ারের উচ্চ কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ করছেন। ফলে কোম্পানি পাচ্ছে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম। অন্যদিকে, উচ্চ দামে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর, কোম্পানি সেই দাম ধরে রাখতে পারছে না।

এমন পরিস্থিতিতে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ড্রাস্ট্রিজের আইপিও বুক বিল্ডিং য়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। পাবলিক ইস্যু রুল অনুযায়ী, শুধু ফিক্সড প্রাইসে (স্থির মূল্যে) বা ফেসভ্যালুতে পুঁজিবাজারে আসতে হলে একটি কোম্পানিকে পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ অথবা ৩০ কোটি টাকা, এর মধ্যে যেটি বেশি সেই পরিমাণ শেয়ার ছাড়তে হয়। অর্থাৎ ফেসভ্যালুতে পুঁজিবাজারে আসতে একটি কোম্পানিকে কমপক্ষে তার ১০ শতাংশ শেয়ার আইপিওতে ছাড়তে হয়।

অপরদিকে প্রিমিয়াম নিতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ে অংশ নিয়ে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করেন। তবে এই বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানিকে কমপক্ষে কত শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে তার কোনো নীতিমালা নেই। কাট-অফ প্রাইসের ওপর নির্ভর করে শেয়ার ছাড়ার পরিমাণ।

এমন নিয়মের কারণে বিডিংয়ে নির্ধারিত কাট-অফ প্রাইসের ওপর নির্ভর করে ওয়ালটন আইপিওতে এক শতাংশেরও কম শেয়ার ছেড়েছে। এত অল্প সংখ্যক শেয়ার আইপিওতে আসায় ইতোমধ্যে কোম্পাতিটির শেয়ার নিয়ে এক ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে হু-হু করে বাড়ছে দাম। তালিকাভুক্তির পর এক সপ্তাহ পার না হতেই কোম্পনিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিনগুন।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থির মূল্য বা বুক বিল্ডিং যে পদ্ধতিতেই কোম্পানি আইপিওতে আসুক, কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার নিয়ম করা উচিত। এটা না করা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঠকবেন। কারণ বাজারে শেয়ার কম থাকলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা সম্ভব। যা ক্ষতিগ্রস্ত করে সার্বিক বাজার।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *