https://www.dhakaprotidin.com/wp-content/uploads/2021/01/Betagi-Barguna.jpg

বেতাগীতে উপজেলা আদালত নেই, চরম বিপাকে মানুষ

সারাবাংলা

সালাউদ্দিন, বেতাগী থেকে : বরগুনার বেতাগী উপজেলা আদালত না থাকায় এলাকার মানুষদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বরগুনা মহাকুমা থাকাকালীন ১৯৬৯ সালে বেতাগীতে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এরশাদ সরকারের আমলে উপজেলা প্রতিষ্ঠার সুবাদে এখানে থানা আদালত স্থাপিত হয়। বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯২ সালে বেতাগী থেকে আদালত জেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়।

আদালতের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সভা, আদালত বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি মানববন্ধন করে। এসময় প্রধানমন্ত্রী, আইন বিচার ও সংস্থাপন মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রদান করা হয় স্মারকলিপি। তৎকালীণ সময় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিচনার আশ্বাস দিলেও অধ্যবধি কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২০ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেকের সফরকালে এক সমাবেশে বেতাগী পৌরসভার পক্ষ থেকে একই দাবি তোলা হয়। এ উপজেলার ১টি পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়নের ৭২টি গ্রামে দুই লাখের বেশি মানুষের বসবাস। বরগুনা জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে বেতাগী উপজেলার অবস্থান। যোগযোগ ব্যবস্থার দিক দিয়েও ব্যয় বহুল ও পিছিয়ে। তাছাড়া সদরে স্থানান্তরিত বেতাগী থানা আদালতে বিচারক, এ্যাডভোকেট, আদালত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার সুব্যবস্থা নেই। আসামি ও বহিরাগতদের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আসামিদের জবানবন্দির গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। আদালত কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। জেলা সদরে যাওয়া-আসা, খাওয়া ও উকিলদের পাওনা মেটাতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হয়।

বরগুনা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে বেতাগী সদর। সেখান থেকে আরও ১৫ কিলোমিটার উত্তরে বিবিচিনি ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের দেশান্তরকাঠী গ্রামের ভুক্তভোগী মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, বেতাগীতে থানা আদালত বিদ্যমান থাকলে উপজেলা সদরের নিকটবর্তী লোকেরা বাড়িতে বসেই মামলা পরিচালনা করতে পারত। সদর থেকে যারা একটু দূরবর্তী তারা সকাল সকাল কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে পারত। মামলায় কম টাকা ব্যয় হতো। মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্টের শিকার হতে হতো না। কিন্ত আদালত স্থানান্তরের ফলে জনসাধারণের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি অর্থ ব্যয়ের কারণে অনেকে মামলার ব্যয়ভার পরিচালনা করতে পারছে না।

অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুর রহমান জানান, প্রশাসনিক জটিলতায় মামলার কার্যক্রমে বিলম্বিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষী সংগ্রহ করা সম্ভব হয়না। জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত আদালত ভবন-অবহেলায় দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে।

বেতাগী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম গোলাম কবির বলেন, উপজেলা আদালত পুন:স্থাপনের সরকারের যে নীতিমালা রয়েছে তার সবাই এখানে বিদ্যমান রয়েছে। রয়েছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ভবন, হাজতখানা, পুলিশ ব্যারাক, বৈদ্যুতিক সংযোগ সহ অন্যান্য ব্যবস্থা।
বেতাগী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান জনস্বার্থে উপজেলা আদালত পুন:স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *