বেদখলের পথে বীরেন্দ্র খাল

সারাবাংলা

রফিকুজ্জামান, চাটখিল থেকে
নোয়াখালীর চাটখিলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা বীরেন্দ্র খাল দখল ও দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এ খাল দিয়ে মেঘনা-ডাকাতিয়া নদী হয়ে ছোট বড় ট্রলারে ও নৌকায় পণ্যসামগ্রী নোয়াখালীর বিভিন্ন হাট-বাজারে আনা-নেওয়া করতেন ব্যবসায়ীরা। এ খালের জল এখানকার কৃষিজমির সেচের কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু অব্যাহত দখল ও দূষণে প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী বীরেন্দ্র খালটি। অবৈধ দখলদারদের দখলে ও ময়লা-আবর্জনা হারিয়ে যাচ্ছে খালটি। এক সময়ের খরস্রোতা খালটি এখন নালায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
জানা যায়, বীরেন্দ্র খালটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মোগল আমলের। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢল থেকে নোয়াখালী ও কুমিল্লার আংশিক অঞ্চলকে রক্ষা এবং এলাকার জল নিষ্কাশন ও সেচ কাজের সুবিধার জন্য খালটি খনন করা হয়। ১৯০৫-১৯১০ সালের স্থানীয় জমিদার প্রথম খালটি সংস্কার করেন। সংস্কার করে জমিদার এ খালের নাম করেন বীরেন্দ্র খাল। সর্বশেষ ১৯৮০-৮১ সালে বীরেন্দ্র খালের আংশিক অংশের সংস্কার করা হয়।
জানা যায়, বর্তমানে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী জেলা পরিষদের অস্থায়ী একসনা লিজের অপব্যবহার করে খালের মাঝখানে পাকা পিলার দিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করে পুরো খাল দখল করে নিচ্ছে। চাটখিল পৌরসভা অংশে খালের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। চাটখিল বাজার ও আশেপাশের আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা ময়লা-আবর্জনা ফেলেই চলেছে খালে। চাটখিল বাজারের প্রবেশ পথের সেতুর নিচের অংশে আবর্জনা ফেলায় খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এ ছাড়া পৌর এলাকা, দশঘরিয়া বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলার বাংলাবাজার, জয়াগ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বীরেন্দ্র খাল প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে ভরাট করেছে। বর্তমানে খালটি চেনার কোনো উপায় নেই। এলাকাবাসীর ঐতিহ্যবাহী বীরেন্দ্র খালটি জরুরীভিত্তিতে সংস্কার করে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জোর দাবী জানিয়েছেন। এ ছাড়া কৃষি নির্ভর চাটখিল এলাকার কৃষকরা যাতে এ খালের জল সেচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করছেন কৃষকরা। এ ব্যপারে চাটখিল উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির জানান, খালটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা খুবই জরুরি। চাটখিল-সোনাইমুড়ী আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বীরেন্দ্র খাল পুররুদ্ধার ও সংস্কারের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। চাটখিল পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র ভিপি নিজাম উদ্দিন জানান, বীরেন্দ্র খালের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা খুব শিগগিরই নেওয়া হবে। জেলা পরিষদের সদস্য ইমরুল চৌধুরী রাসেল বলেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো একনা লিজ গ্রহিতারা খালের মাঝখান পর্যন্ত পাকা পিলার বা বাঁশের খুঁটি দিয়ে বাণিজ্যিক ঘর নির্মাণ করায় খালে জনাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার অনুমোদনবিহীন ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কারণেও খালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার অনুমোদনবিহীন ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কারণেও খালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। জেলা পরিষদের দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে বলে জানান ইমরুল। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিম বলেন, অবৈধ দখল এবং ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যাপারে জেলা পরিষদ এবং পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *